বিশ্ব পোলিও দিবসের উপলক্ষে আজ ঢাকা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে রোটারি আন্তর্জাতিক সংস্থা সমন্বিত এক বৃহৎ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালির সূচনাবিন্দু হিসেবে শহরের কেন্দ্রীয় পার্কে এক বিশাল মঞ্চ স্থাপন করা হয়, যেখানে পোলিও নির্মূলের লক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নানা রঙের ব্যানার, পোস্টার এবং তথ্যবহুল প্যানেল সাজানো হয়েছে। র্যালির অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষার্থী, সমাজসেবী এবং সাধারণ নাগরিকের সংখ্যা লক্ষাধিক বলে অনুমান করা হচ্ছে। র্যালি চলাকালীন পোলিও টিকাদানের গুরুত্ব, পোলিওমুক্ত বিশ্ব গঠনের জন্য প্রত্যেকের ভূমিকা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হয়।

পোলিও রোগের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হলে দেখা যায়, দশক আগে পর্যন্ত এই রোগের কারণে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ শিশুর শারীরিক অক্ষমতা ও মৃত্যু ঘটেছিল। তবে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে ১৯৯৫ সালে গ্লোবাল পোলিও নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয় এবং এরপর থেকে ধারাবাহিক টিকাদান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পোলিও কেসের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে। তবুও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পোলিও রোগের পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা সরকারকে টিকাদান কার্যক্রমকে পুনরায় তীব্র করার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। র্যালির মূল উদ্দেশ্যই এই পুনরাবৃত্তি রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাদান প্রোগ্রামের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা।

র্যালিতে উপস্থিত স্বাস্থ্য মন্ত্রী মহোদয় টিকাদানের গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য দেন এবং বলেন, “পোলিও নির্মূলের জন্য টিকাদানই একমাত্র কার্যকর উপায়। প্রত্যেক পরিবারকে টিকাদান সম্পন্ন করতে হবে, বিশেষ করে দূরবর্তী গ্রামাঞ্চলে।” রোটারি আন্তর্জাতিকের বাংলাদেশ উপপ্রতিনিধি বলেন, “আমাদের র্যালি মাধ্যমে জনসাধারণকে টিকাদানের প্রতি উৎসাহিত করা এবং পোলিওমুক্ত সমাজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চাই।” উপস্থিত শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকরা র্যালি চলাকালে রঙিন পোস্টার ও গান গেয়ে জনসাধারণের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করে এবং টিকাদান সেবা প্রদানকারী স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তা করে।

অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা র্যালির পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে টিকাদান ক্যাম্পের সংখ্যা বৃদ্ধি, টিকাদান কেন্দ্রের সরঞ্জাম আধুনিকায়ন এবং টিকাদান সম্পর্কিত তথ্যপ্রযুক্তি সিস্টেমের উন্নয়ন পরিকল্পনা করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নতুন টিকাদান রেকর্ড সিস্টেম চালু করে টিকাদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে। রোটারি আন্তর্জাতিকও আগামী বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে র্যালি ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাবে, যাতে পোলিওমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।