দিল্লিতে কাশ্মীরের তিনজন প্রধান নেতা – মীরওয়াইজ উমর ফারুক, হাবিব উল হক এবং নাজিম উল হক – ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাহিমি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একত্রিত হন। এই বৈঠকটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীরের রাজনৈতিক অবস্থানকে পুনরায় আলোচনায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। কাশ্মীরের প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছে, যা অঞ্চলগত নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। এই বৈঠকের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং কাশ্মীরের স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নকে উত্থাপন করে।
কাশ্মীরের রাজনৈতিক সংগ্রাম বহু দশক ধরে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে রয়েছে, আর ইরানের এই ধরনের অংশগ্রহণ পূর্বে কমই দেখা গিয়েছে। ইরান ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং সাম্প্রদায়িক সংহতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশীয় সমস্যায় জড়িত হয়েছে। দিল্লি, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, এখানে এই বৈঠকের আয়োজনের পেছনে ভারত সরকারের কূটনৈতিক স্বার্থ ও মধ্যপ্রাচ্য নীতি সমন্বয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বে ইরান কাশ্মীরের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সশস্ত্র সংঘর্ষের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তাই এই বৈঠকটি অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করতে পারে।
বৈঠকে মীরওয়াইজ উমর ফারুক কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও মানবাধিকার রক্ষার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ইরানের সমর্থনকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার রূপে প্রত্যাশা জানান। ইরানের প্রেসিডেন্ট রাহিমি কাশ্মীরের জনগণের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সমাধানের আহ্বান জানান। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক সূত্রে জানানো হয় যে, বৈঠকের বিষয়বস্তু গোপনীয় এবং কোনো একতরফা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি, তবে কাশ্মীরের মানবিক পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য সকল পক্ষের সহযোগিতা স্বাগত। স্থানীয় জনগণ ও সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠী এই বৈঠককে কাশ্মীরের অধিকার রক্ষার একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে স্বাগত জানায়, তবে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইরানের অংশগ্রহণকে জটিল ভূ-রাজনৈতিক গতি হিসেবে বিবেচনা করে সতর্কতা প্রকাশ করেন।
বৈঠকের পর, ভারত, পাকিস্তান এবং ইরান কূটনৈতিক চ্যানেল সক্রিয় করে পরবর্তী আলোচনার সূচি নির্ধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাশ্মীরের মানবিক সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক তহবিল গঠন ও পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রস্তাব রেখেছে। একইসঙ্গে, ভারত সরকার কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং সশস্ত্র সংঘর্ষের ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ভবিষ্যতে, এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠকটি কাশ্মীরের রাজনৈতিক সমাধানের পথে নতুন কূটনৈতিক মডেল গড়ে তুলতে পারে, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য সকল সংশ্লিষ্ট দেশের আন্তরিক ইচ্ছা ও আন্তর্জাতিক আইনের কঠোর অনুসরণ প্রয়োজন।