মুম্বাই শহরের কেন্দ্রে আজ জেন-জি নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করেছে। ২৫০০ এরও বেশি তরুণ সদস্য ভিড় করে সড়ক বন্ধ করে, সাইনবোর্ডে লিখে ‘নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ’। এই আন্দোলনটি ভোটার তালিকা সংশোধনে কারসাজির অভিযোগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে গৃহীত। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন যে তালিকা পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ভোটার গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনের ন্যায়পরতা ক্ষুণ্ণ করেছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের অভিযোগের পটভূমিতে দেখা যায় যে গত বছরের নির্বাচনের আগে কমিশনারের অধীনে একাধিক তালিকা আপডেটের প্রক্রিয়ায় অসংখ্য ত্রুটি ও অনিয়মের খবর উঠে এসেছে। পূর্বে কমিশনারের সিদ্ধান্তে কয়েকটি জেলা তালিকা থেকে কয়েক হাজার ভোটারকে অপসারণ করা হয়েছিল, যা স্থানীয় নির্বাচনী সমিতির প্রতিবাদ উস্কে দিয়েছে। এই ঘটনাগুলো নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির নেতা রাহুল চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আমাদের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছি। কমিশনারের পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো সমাধান সম্ভব নয়।’ সরকারী কর্মকর্তারা দাবি করেন যে কমিশনারের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি এবং তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বিরোধী দলগুলোও এই দাবিকে সমর্থন করে বলেছে যে নির্বাচনী কমিশনের স্বতন্ত্রতা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। জনগণের মধ্যে এই আন্দোলনের প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে; কেউ কেউ তরুণদের উত্সাহকে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে বিক্ষোভের ফলে নির্বাচনী কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
কর্তৃপক্ষের বর্তমান পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে কমিশনারের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বাড়াতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন। এছাড়া, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও তৃতীয় পক্ষের পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনী কমিশনের সিদ্ধান্তে আরও স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য নতুন বিধি প্রণয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের ন্যায়পরতা পুনরুদ্ধার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।