ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি শাসন পরিষদ (ফসপ) গত রোববার সন্ধ্যায় অধ্যাপক জিনাত হুদা‑কে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিভাগে চলমান শিক্ষার্থী‑শিক্ষক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে এবং জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষাক্ষেত্রের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বহিষ্কারের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হুদা অধ্যাপককে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে এবং তার সকল শিক্ষাদান ও গবেষণা কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এই পদক্ষেপটি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করতে নেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক জিনাত হুদা, যিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিশিষ্ট গবেষক ও বহু আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধের মাধ্যমে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন, গত বছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য নজরে এসেছেন। তার কিছু বক্তৃতা ও সামাজিক মিডিয়া পোস্টকে কিছু ছাত্রগোষ্ঠী ‘অসামাজিক’ ও ‘বৈষম্যমূলক’ হিসেবে সমালোচনা করেছে। বিশেষত, গত মাসে তিনি একটি সেমিনারে যে মন্তব্য করেন যে, শিক্ষার্থীদের ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’ শিক্ষার গুণগত মানকে ক্ষুণ্ন করে, তা শিক্ষার্থী ইউনিয়নকে আক্রমণাত্মকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য করে। এই ঘটনাগুলি ফসপের দৃষ্টিতে হুদা অধ্যাপকের আচরণকে ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা ভঙ্গের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত করেছে।

বহিষ্কারের পর হুদা অধ্যাপক নিজে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেন, “আমি কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য বা হিংসা প্রকাশ করিনি; আমার মন্তব্য কেবল একাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে ছিল। ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা স্বাগত। তবে আমি ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করছি।” বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র একই সঙ্গে জানিয়েছেন, “ফসপের সিদ্ধান্ত আইনগত ভিত্তিতে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে।” ছাত্র ইউনিয়ন নেতারা এই সিদ্ধান্তকে ‘অধিক কঠোর’ ও ‘শিক্ষকের স্বাধীনতা হরণ’ হিসেবে সমালোচনা করে, এবং শিক্ষার্থীদের সমর্থনে রেলস্টেশন ও ক্যাম্পাসের আশেপাশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলিও এই ঘটনার ওপর মন্তব্য করে, কিছু দল ফসপের পদক্ষেপকে ‘প্রয়োজনীয়’ বলে সমর্থন জানায়, অন্যদিকে কিছু দল ‘অধিক রূঢ়’ বলে সমালোচনা করে।

অধিকারের দিক থেকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ফসপের সিদ্ধান্তের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। কমিটি দুই সপ্তাহের মধ্যে সকল প্রমাণাদি সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত রিপোর্ট প্রস্তুত করবে এবং হুদা অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি স্থায়ী হবে কিনা তা নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থী‑শিক্ষক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একটি মধ্যস্থতা কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে উভয় পক্ষের উদ্বেগ ও প্রস্তাবনা শোনা হবে। ভবিষ্যতে যদি হুদা অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর লঙ্ঘন প্রমাণিত হয়, তবে স্থায়ী বহিষ্কার বা পদত্যাগের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে; অন্যথায়, দুই সপ্তাহের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শেষে তাকে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হবে। এই প্রক্রিয়া শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।