বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রেরিত নারী কর্মীদের গন্তব্য দেশের সংখ্যা বর্তমানে মাত্র দুইটিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই দুই দেশ হলো মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। গত কয়েক বছরের তুলনায় নারী শ্রমিকদের প্রবাসে যাওয়ার সুযোগ নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোতে গভীর প্রভাব পড়ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে নারী কর্মীদের প্রবাসে যাওয়ার হার আগের দশকের তুলনায় অত্যন্ত নিম্নমুখী। এই পরিস্থিতিতে নারী শ্রমিকদের জন্য নতুন বাজার খোঁজা এবং বিদ্যমান বাজারে সুযোগ বৃদ্ধির জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠে এসেছে।
নারী কর্মীদের প্রবাসে যাওয়ার হার কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে গন্তব্য দেশগুলোর নীতিগত পরিবর্তন ও শ্রমবাজারের চাহিদার পরিবর্তন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নারী শ্রমিকদের নিয়োগের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের নারী শ্রমিকদের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায়ও শ্রমবাজারের চাহিদা কমে যাওয়ায় নারী কর্মীদের নিয়োগের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। এছাড়াও, প্রবাসে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় বাড়াবাড়ি, ভিসা পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়া এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নারী কর্মীদের প্রবাসে যাওয়ার আগ্রহ কমিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ এবং নারী কর্মীদের প্রতিনিধিরা এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, নারী শ্রমিকদের প্রবাসে যাওয়া কমে যাওয়া দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের জন্য ক্ষতিকর। নারী কর্মীরা প্রবাস থেকে পাঠানো টাকা পরিবারের আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও, নারী শ্রমিকদের প্রবাসে যাওয়া কমে যাওয়া দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনেও প্রভাব ফেলছে। অনেক নারী কর্মী প্রবাস থেকে ফিরে এসে দেশে উদ্যোক্তা হিসেবে বা অন্য কোনো কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে চান, কিন্তু তাদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ নেই।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, নারী কর্মীদের প্রবাসে যাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন গন্তব্য দেশ খোঁজা, বিদ্যমান দেশগুলোর সাথে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নবায়ন ও সম্প্রসারণ এবং নারী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন। সরকার নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে নারী কর্মীদের প্রবাসে যাওয়ার হার বৃদ্ধির জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে নারী শ্রমিকদের অবদান বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করা হবে।