কক্সবাজারের একটি গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে কনের পরিবার ও স্বজনেরা মাইক্রোবাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে হঠাৎ গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটে, ১২ জনের মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু, ৫ জন আহত। দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল সন্ধ্যা সাতটার দিকে, যখন বাসটি সড়কের মাঝখানে একটি গর্তে আটকে গিয়ে সামনে থাকা ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বাসের ভিতরে ছিল কনের মা–বাবা, ভাই-বোন, স্বজন এবং কয়েকজন অতিথি। দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ভেঙে পড়ে, ফলে যাত্রীদের বেশিরভাগই গাড়ির ভিতর থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি।

এই বিয়ের অনুষ্ঠানটি ১৫ই আগস্ট ২০২৪ তারিখে কক্সবাজারের একটি গ্রামীণ হাটে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কনের পরিবারে মোট ৮০ জনের বেশি অতিথি উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের পর কনের পরিবার ও অতিথিরা গ্রাম থেকে শহরের দিকে যাত্রা করছিলেন, যাত্রা চলাকালীন তারা একটি পুরনো সড়ক ব্যবহার করছিলেন যা সাম্প্রতিক সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। বাসটি গ্রাম থেকে শহরের দিকে যাওয়ার পথে একটি গর্তে আটকে যায়, যার ফলে বাসের সামনের অংশে বড় ক্ষতি হয়।

দুর্ঘটনার পর কনের মা–বাবা ও ভাই-বোনেরা তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে পৌঁছান। কনের মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমরা সবাই আনন্দে মেতে ছিলাম, এখন এই দুর্ঘটনায় এতজনকে হারাতে হচ্ছে, এটা অবর্ণনীয়।” কনের ভাই বলেন, “আমাদের পরিবারে এই ক্ষতি অমোচনীয়, কিন্তু আমরা সবাইকে সমর্থন করতে চাই।” গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে এসে শোক প্রকাশ করেন এবং মৃতদের জন্য শোকসভার আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কক্সবাজার পুলিশ দুর্ঘটনার স্থানে দ্রুত পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। তারা সড়কের অবস্থা, গর্তের আকার ও বাসের ব্রেকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করছে। পুলিশ জানিয়েছে, “আমরা দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।” এছাড়া, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগকে অবিলম্বে গর্ত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য সরকারী বিভাগগুলোকে সমন্বয় করার পরিকল্পনা চলছে।