জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ড. রাকিবুল হক, আজ ঢাকা শহরের কনফারেন্স হলে এক উষ্ণ বক্তব্যে জানিয়েছেন যে, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজাচ্ছি’ – অর্থাৎ, নতুন অবকাঠামো, আধুনিক সরঞ্জাম ও উন্নত শিক্ষণ পদ্ধতি এনে প্রতিষ্ঠানটিকে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ১,৫০০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করে ৪০টি নতুন লাইব্রেরি, ২০টি গবেষণা কেন্দ্র ও ১০টি ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষা ও গবেষণা সুযোগ নিশ্চিত করা, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা ১,২০,০০০ এরও বেশি শিক্ষার্থীকে সেবা দেয়। গত কয়েক বছরে অবকাঠামোগত ঘাটতি, পুরনো লেকচার হল ও সীমিত গবেষণা সুযোগের কারণে শিক্ষার মানে অবনতি দেখা গিয়েছে। উপাচার্যের এই ‘ঢেলে সাজানো’ পরিকল্পনা, ১৯৮০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ রূপে আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়। পূর্ববর্তী সরকারগুলোতে তহবিলের ঘাটতি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রকল্পগুলো প্রায়শই বিলম্বিত হয়েছে, তাই এইবার সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একসাথে কাজ করে প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

উপাচার্যের বক্তব্যে বিভিন্ন অংশীদার গোষ্ঠী প্রশংসা জানিয়েছে। শিক্ষকমণ্ডলী বলেছে যে, নতুন গবেষণা কেন্দ্র ও উন্নত ল্যাবরেটরির ফলে শিক্ষাদান ও গবেষণা মানোন্নয়ন হবে। শিক্ষার্থীরা আশাবাদী যে, আধুনিক সরঞ্জাম ও ডিজিটাল লেকচার হল তাদের শেখার অভিজ্ঞতা উন্নত করবে। স্থানীয় সম্প্রদায়ও উল্লেখ করেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যেমন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তি হস্তান্তর।

অধিকন্তু, সরকার কর্তৃক গৃহীত ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন কর্মসূচি’র আওতায়, ১,০০০ কোটি টাকার তহবিলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রযুক্তি ও তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ চলছে। উপাচার্য বলেন, ‘প্রথম ১৮ মাসে ২০টি নতুন ল্যাব ও ১০টি আধুনিক লেকচার হল নির্মাণের কাজ শুরু হবে, এবং ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রকল্প সমাপ্ত হবে।’ পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপ উন্নয়ন করে দূরশিক্ষার মানোন্নয়ন করা হবে। ভবিষ্যতে, বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এই পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য বলে উপাচার্য জোর দিয়েছেন।