সাম্প্রতিক সময়ে জিমে ট্রেডমিলে দৌড়ানোর ফলে ওজন কমবে এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য গবেষণা দেখায় প্রকৃতির মাঝে হাঁটা শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী। ট্রেডমিলে দ্রুত গতি বজায় রাখলেও হৃদযন্ত্রের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, আর হাঁটার সময় শরীরের বিভিন্ন পেশি সমানভাবে কাজ করে। ফলে ক্যালোরি পোড়ার হার বেশি হয় এবং মেটাবলিজম স্থিতিশীল থাকে। এছাড়া বাইরের বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
ট্রেডমিলের জনপ্রিয়তা মূলত জিমের আধুনিক চেহারা ও সহজলভ্যতার কারণে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ট্রেডমিলে দীর্ঘ সময় ধরে দৌড়ালে পেশি ও জয়েন্টে আঘাতের সম্ভাবনা বাড়ে। অন্যদিকে, প্রকৃতির মাঝে হাঁটা পেশি ও হাড়ের উপর কম চাপ ফেলে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, সপ্তাহে তিন থেকে চারবার ৩০–৪৫ মিনিটের হাঁটা ওজন কমাতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর।
এই বিষয়ে চিকিৎসা পেশাদাররা জোর দিয়েছেন যে, ট্রেডমিলের বদলে হাঁটা বেছে নিলে শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়। একজন কার্ডিওলজিস্ট বলেন, “হাঁটা হৃদয়কে শক্তিশালী করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।” জনসাধারণের মধ্যে এই তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ফলে অনেকেই জিমে ট্রেডমিলের বদলে বাইরে হাঁটার দিকে ঝুঁকছেন। সামাজিক মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগ #হাঁটাহেলথ ভাইরাল হয়ে উঠেছে, যা স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ক্যাম্পেইন চালু করেছে। মন্ত্রণালয় জিম ও ফিটনেস সেন্টারগুলোকে ট্রেডমিলের বদলে হাঁটার পথ তৈরি করতে উৎসাহিত করছে। পাশাপাশি, শহরগুলোতে সবুজ পথ ও সাইকেল লেন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা চলছে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা গড়ে তুলতে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলো মিলিত হয়ে হাঁটার জন্য উপযোগী অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেবে।