গত সপ্তাহে ফেসবুকে একটি গ্রুপে অবৈধ গ্যাস কম্প্রেসর বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এই কম্প্রেসরগুলো সাধারণ গৃহস্থালির গ্যাস সিলিন্ডারকে দ্রুত চাপ বাড়িয়ে ব্যবহারযোগ্য করে তোলে, কিন্তু সঠিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের অভাবে এগুলো বিস্ফোরণ ও গ্যাস লিকের ঝুঁকি বাড়ায়। গ্রুপের পোস্টে ১,০০০ টিরও বেশি ছবি ও বিক্রয়মূল্য উল্লেখ ছিল, যা সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ জাগিয়েছে। এই বিক্রয় কার্যক্রমের ফলে গৃহস্থালির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে এবং জরুরি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।

অবৈধ গ্যাস কম্প্রেসর বাজারে আসার পেছনে মূলত সস্তা বিকল্পের চাহিদা ও নিয়ন্ত্রণের অভাব। অনেক ছোট ব্যবসায়ী ও গৃহস্থালি এই কম্প্রেসর কিনে গ্যাস সিলিন্ডারকে দ্রুত চাপ বাড়িয়ে ব্যবহার করে, যাতে গ্যাসের ব্যবহার বাড়ে। তবে এই যন্ত্রগুলোতে সঠিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই এবং সেফটি ভালভের অভাব রয়েছে। ফলে গ্যাস লিক বা ওভারপ্রেশার ঘটলে বিস্ফোরণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এছাড়া, এই যন্ত্রগুলোতে সার্টিফিকেশন ও গ্যারান্টি নেই, যা ভোক্তাদের জন্য বড় ঝুঁকি।

স্থানীয় পুলিশ ও গ্যাস নিরাপত্তা অধিদপ্তর দ্রুত হস্তক্ষেপ করে গ্রুপটি বন্ধ করে দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে যে অবৈধ গ্যাস কম্প্রেসর বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্যাস নিরাপত্তা অধিদপ্তরের মুখপাত্র বলেন, "এই ধরনের যন্ত্র বিক্রয় গ্যাস নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করে এবং জনজীবনে বিপদ সৃষ্টি করে।" ভোক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, "আমরা জানি না এই যন্ত্রগুলো কতটা নিরাপদ, কিন্তু দাম কম হওয়ায় কেনা সহজ।"

অধিদপ্তর আগামী সপ্তাহে অবৈধ গ্যাস কম্প্রেসর চিহ্নিত ও জব্দ করার জন্য বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে। এছাড়া, ভোক্তা সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালিয়ে মানুষকে সঠিক যন্ত্র কেনার গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস নিরাপত্তা বিধি কঠোর করার পাশাপাশি সার্টিফাইড যন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে নতুন নিয়ম প্রণয়ন করা হবে। এই পদক্ষেপগুলো গৃহস্থালির নিরাপত্তা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।