ব্রিকস দেশসমূহের শীর্ষ সম্মেলনের সমাপ্তিতে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে একমত হওয়া হয়েছে। এই ঘোষণাপত্রে সরাসরি কোনো দেশের নাম না উল্লেখ করে, যেকোনো একপক্ষীয় যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপকে সমগ্র বিশ্বে এক গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে। ঘোষণাপত্রের স্বাক্ষরকালে উপস্থিত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা একসঙ্গে বলেছিলেন, একপক্ষীয় হিংসা কোনো পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা নষ্ট করে। এ ঘোষণাপত্রের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ব্রিকস গঠন করা হয়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা এই পাঁচটি বৃহৎ উদীয়মান দেশের সমন্বয়ে। গত কয়েক বছরে এই গোষ্ঠী বৈশ্বিক অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। পূর্বে বহুবার তারা বহুপাক্ষিকতা, ন্যায়সঙ্গত আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও সমতাপূর্ণ উন্নয়নের পক্ষে মত প্রকাশ করেছে। তবে একপক্ষীয় সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে স্পষ্ট নীতি গড়ে তোলার জন্য এইবারের ঘোষণাপত্রটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। এ পর্যন্ত কিছু দেশ একপক্ষীয় হস্তক্ষেপে সমর্থন জানিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে; তাই এই ঘোষণাপত্রটি ঐ বিরোধের সমাধানে একটি নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে।

ব্রিকসের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এই ঘোষণাপত্রের স্বাক্ষরের সময় একে 'শান্তি রক্ষার ঐক্যবদ্ধ সংকল্প' বলে উল্লেখ করেছেন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, 'একপক্ষীয় যুদ্ধের কোনো বৈধতা নেই; আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসঙ্গে কাজ করে এ ধরনের হুমকি নির্মূল করতে হবে'। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রীও একই রকম মত প্রকাশ করে, 'শান্তিপূর্ণ সমাধানই একমাত্র টেকসই বিকল্প' বলে জোর দিয়েছেন। এই ঘোষণাপত্রের প্রকাশের পর সাধারণ জনগণের মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা সম্পর্কে আশাবাদী মনোভাব দেখা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান এবং একপক্ষীয় হিংসার নিন্দা ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে।

ব্রিকস দেশসমূহের পাশাপাশি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও এই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানিয়ে, একপক্ষীয় যুদ্ধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে এই গোষ্ঠী নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি রক্ষার জন্য সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া, সদস্য দেশগুলো নিজেদের জাতীয় নীতি ও আইন প্রণয়নে এই ঘোষণাপত্রের নীতিগুলো অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, এই যৌথ অবস্থান আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলবে এবং একপক্ষীয় হুমকি মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপের পথ প্রশস্ত করবে।