রাশিয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় ২০ জন বাংলাদেশি সামরিক কর্মী নিহত হয়েছেন। ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোনের আক্রমণে বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর ২০ সদস্য প্রাণ হারায়। ঘটনাটি রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে অবস্থিত একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ঘটেছে, যেখানে বাংলাদেশি সৈন্যরা ইউক্রেনের সাথে সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে কাজ করছিল। এই আক্রমণে ঘাঁটির কয়েকটি সামরিক সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি সীমিত ছিল।
এই ঘটনাটি ঘটার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের বাংলাদেশ-রাশিয়া সামরিক সহযোগিতা, যা ২০১০ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০২৪ সালে নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী ইউক্রেনের সাথে সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি বিনিময় প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে, এবং এই হামলায় ড্রোনের সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা শত্রু বাহিনীর হস্তক্ষেপের সন্দেহ উত্থাপিত হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সামরিক বিভাগ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পরিবারকে অবহিত করে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “আমরা ঘটনাটি নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন এবং শিকারদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই।” শিকারদের পরিবারগুলো কুড়ি শোকাহত হয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ চায়। একই সময়ে রাশিয়ার সামরিক প্রতিনিধি মস্কোতে বাংলাদেশি দূতাবাসে গিয়ে শোক প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে উভয় দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ সরকার ঘটনাটির পর তৎক্ষণাৎ একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং রাশিয়ার সাথে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শিকারদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও সেবা প্রদানের ব্যবস্থা নেয়। পাশাপাশি, সামরিক বাহিনীর জন্য ড্রোন সুরক্ষা প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত আপগ্রেডের পরিকল্পনা শুরু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশি বাহিনীর বিদেশে মোতায়েনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোর করা হবে এবং আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতায় ঝুঁকি মূল্যায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।