গত সপ্তাহের শেষের দিকে ঢাকা শহরের উত্তর‑দক্ষিণ রাস্তায় একদল ছিনতাইকারীকে ধরা পড়েছে, যা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করেছে। বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভল্যুশন (বাইইউআর) নামে পরিচিত এই তরুণদের দল, আটজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত, নির্দিষ্ট রঙের ইউনিফর্ম পরিধান করে টহল চালায় এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের ওপর তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপ করে। গতকাল সন্ধ্যায় গুলশান‑মতিঝিল এলাকায় একটি চোরের গোষ্ঠীকে গৃহবন্দি করে, তাদের জব্দ করা জিনিসপত্র ও চোরের পরিচয় জানার পর সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশকে জানায়। এই ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে দ্রুত আলোচনা সৃষ্টি করে, কারণ এটি স্বেচ্ছাসেবী নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের উদাহরণ প্রদান করে।
বাইইউআর গোষ্ঠীটি ২০২১ সালে দেশের যুব শক্তিকে সুশৃঙ্খল নিরাপত্তা উদ্যোগে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক রাহুল আহমেদ, পূর্বে একাধিক সামাজিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে, যুবকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও নাগরিক সচেতনতা জাগ্রত করতে চেয়েছেন। দলটি প্রতিটি সদস্যকে সুনির্দিষ্ট রঙের শার্ট, প্যান্ট ও সনাক্তকরণ চিহ্ন প্রদান করে, যাতে তারা জনসাধারণের মধ্যে সহজে চেনা যায় এবং তাদের কাজের স্বচ্ছতা বজায় থাকে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ সেশন, আইনগত অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে কর্মশালা, এবং স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের সঙ্গে সমন্বয়মূলক মিটিংয়ের মাধ্যমে দলটি কার্যকরী টহল চালাতে সক্ষম হয়েছে।
দলটির প্রধান রাহুল আহমেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কেবল চোরকে ধরা নয়, সমাজে নিরাপত্তার অনুভূতি জাগিয়ে তোলা। আমরা আইন মেনে চলি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ পুলিশকে জানাই।” গুলশান থানা প্রধান ইমরানুল হকও মন্তব্য করেন, “বাইইউআর-এর মতো স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর সহায়তা আমাদের কাজকে দ্রুততর করে। আজকের ধরা চোরের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এধরনের সহযোগিতা বাড়বে।” স্থানীয় বাসিন্দা মেহজাবিনু রায়ের মতে, “রাতের সময়ে এই তরুণদের উপস্থিতি আমাদের নিরাপত্তা বোধকে শক্তিশালী করেছে; তারা যেন আমাদের সুরক্ষার অতিরিক্ত চোখ।” এ ধরনের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সমাজে স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করেছে।
অধিকাংশ নিরাপত্তা সংস্থা এখন এই ধরনের স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে নীতি প্রণয়ন করছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে, আগামী ছয় মাসে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সমজাতীয় দল গঠন ও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, আইনসভা সদস্যদের প্রস্তাবিত ‘সিভিল সুরক্ষা স্বেচ্ছাসেবী আইন’ প্রণয়নের মাধ্যমে, স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর আইনি সুরক্ষা ও দায়িত্ব স্পষ্ট করা হবে। সরকারী সহায়তা, আর্থিক অনুদান এবং সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে, এই উদ্যোগকে টেকসই ও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। ভবিষ্যতে, স্বেচ্ছাসেবী তরুণদের কার্যক্রমকে সমন্বিত করে, শহরের অপরাধ হার হ্রাস এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা বোধকে আরও দৃঢ় করা সম্ভব হবে।