ঢাকায় বসবাসরত ৯ বছরের আরফা, জন্মের তিন দিনের মাথায় মা হারিয়ে, এখন বাবাকে ডেঙ্গুতে হারিয়েছে। ৩ দিনের মাথায় মা মারা যাওয়ার পর আরফা দাদি ও চাচাদের সাথে বড় হচ্ছে। ২৮ জুলাই বাবার হঠাৎ মৃত্যুর পর, আরফা মোবাইলে বাবার সঙ্গে তোলা ছবি ও দুই কবরের ছবি দেখিয়ে বলছে, ‘এখন বাবা ছাড়া কিছুই ভালো লাগে না।’ এই ঘটনা শহরের স্বাস্থ্য বিভাগে নজর কেড়েছে এবং ডেঙ্গু রোগের বিরুদ্ধে চলমান সচেতনতামূলক প্রচারণার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
মামলার পটভূমি অনুযায়ী, আরফার মা ২০১৬ সালে জন্মের তিন দিনের মাথায় গর্ভপাতের কারণে মারা যান। এরপর থেকে আরফা দাদি ও চাচাদের সঙ্গে বসবাস করে, কিন্তু বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল খুব ঘনিষ্ঠ। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে শহরে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বাবারও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ মাসে শহরে ১,৫০০টিরও বেশি ডেঙ্গু কেস রেকর্ড হয়েছে, যার মধ্যে ৪০টি মৃত্যু।
আরফা তার কষ্টের কথা শেয়ার করে বলছে, ‘বাবা সবসময় আমার পাশে থাকতেন, এখন তিনি চলে গেলেন, আমি একা বোধ করি।’ দাদি ও চাচারা বলেন, ‘আমরা সবসময় তাকে সমর্থন করেছি, কিন্তু এখন আমাদেরও তাকে হারাতে হবে।’ স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা আমাদের দেখায় যে ডেঙ্গু রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কতটা জরুরি।’ সামাজিক কর্মী রিয়া আহমেদও যোগ করেন, ‘পরিবারের মানসিক সমর্থনও সমান গুরুত্বপূর্ণ, তাই আমাদেরকে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা বাড়াতে হবে।’
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। ১লা সেপ্টেম্বর থেকে শহরে অতিরিক্ত টিকাদান কেন্দ্র খুলে ১,০০,০০০ জনকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, স্বাস্থ্য বিভাগ সিটি জুড়ে মশার প্রজননস্থল নির্মূলের জন্য তহবিল বরাদ্দ করেছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য রেডিও ও টেলিভিশন মাধ্যমে প্রচারণা চালু করেছে। ভবিষ্যতে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ডেঙ্গু রোগের বিরুদ্ধে গবেষণা ও চিকিৎসা পদ্ধতি উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করবে। এই পদক্ষেপগুলো শহরের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।