২০১৯ সালে টেলিভিশন রিয়ালিটি শো ‘সারেগামাপা’তে অংশগ্রহণের পর থেকে মাত্র এক বছর অতিক্রান্তে নোবেল নামে পরিচিত তরুণ শিল্পী মাসে চৌদ্দ থেকে ষাট লাখ টাকার আয় অর্জন করে দেশের সর্বোচ্চ আয়ের তালিকায় স্থান পায়। শো‑এর চূড়ান্ত রাউন্ডে জয়ের পর তার নাম সংবাদ শিরোনামে শীর্ষে উঠে, বিজ্ঞাপন, ইভেন্ট ও গাইডেন্সের চাহিদা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়। এই অপ্রত্যাশিত আর্থিক সাফল্য নোবেলকে এক মুহূর্তে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় মুখে পরিণত করে, তবে একই সঙ্গে তার জীবনে অপ্রত্যাশিত চাপ ও দিকভ্রান্তি সঞ্চার করে।
‘সারেগামাপা’ একটি জাতীয় পর্যায়ের গানের প্রতিযোগিতা, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা দর্শক ভোট ও বিচারকের স্কোরের সমন্বয়ে পুরস্কার জিতে নেন। শো‑এর জনপ্রিয়তা ও বিজ্ঞাপনদাতাদের আগ্রহের ফলে বিজয়ীর জন্য মাসিক আয়ের পরিসীমা কয়েক দশক পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তবে এই ধরনের উচ্চ আয়ের সুযোগের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, কর সংক্রান্ত জটিলতা এবং সামাজিক দায়িত্বের বোঝা তরুণ অংশগ্রহণকারীদের জন্য অপরিচিত থাকে। নোবেলও এই প্রেক্ষাপটে নিজেকে অপ্রস্তুত পেয়ে, দ্রুত সম্পদ সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও ব্যয় পরিকল্পনা গঠনে সমস্যার সম্মুখীন হন।
নোবেল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন, “অল্প বয়সে এত বড় পরিমাণ অর্থ হাতে পেলে কীভাবে ব্যবহার করব তা জানি না; বন্ধুরা ও পরিবারে প্রত্যাশা বেড়ে গিয়েছে।” তার পরিবারও উদ্বেগ প্রকাশ করে, মা বলছেন, “বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমে সঞ্চয় করা টাকা হঠাৎই অপ্রত্যাশিতভাবে এসে গেল, এখন কীভাবে সঠিকভাবে পরিচালনা করব তা জানি না।” আর্থিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তরুণদের জন্য পেশাদার আর্থিক পরামর্শ ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা অপরিহার্য। সামাজিক মিডিয়ায় নোবেলের জীবনযাত্রা ও ব্যয়‑বিলাসের ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ জনগণের মধ্যে সমালোচনা ও সহানুভূতির মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য যুবকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হবে, যেখানে কর, সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও দান‑ব্যবস্থার মৌলিক জ্ঞান প্রদান করা হবে। পাশাপাশি টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোকে অংশগ্রহণকারীদের আর্থিক পরামর্শদাতা সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শো‑এর বিজয়ীরা সঠিকভাবে সম্পদ পরিচালনা করতে পারেন। নোবেল নিজেও এখন একটি স্বনামধন্য আর্থিক পরামর্শক সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তার আর্থিক পরিকল্পনা পুনর্গঠন করছেন এবং ভবিষ্যতে সামাজিক দায়িত্বপূর্ণ কাজের মাধ্যমে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।