শেরপুর জেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে বিস্তৃত কৃষি জমিতে আমন ধানের সবুজ আভাযনে বদলে গেছে সীমান্তবর্তী জনপদের দৃশ্যপট। বাতাসে দুলতে দুলতে সারি সারি ধানগাছ তৈরি করছে এক অনন্য সবুজ ঢেউ, যা দর্শনার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে ভালো ফলনের আশা। তবে এই আনন্দের মাঝেই কৃষকদের মনে রয়েছে বন্য হাতির আতঙ্ক, যা তাদের দৈনন্দিন জীবন ও কৃষিকাজকে প্রভাবিত করছে।
গারো পাহাড়ের পাদদেশের এই অঞ্চলটি প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর। এখানে ধানের শীষের সবুজ রং পাহাড়ের সবুজের সাথে মিশে একটি অদ্ভুত দৃশ্য তৈরি করেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, এবারের আমন মৌসুমে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ পর্যাপ্ত থাকায় ধানের গাছগুলো সুস্থ ও সবুজ হয়ে উঠেছে। ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কৃষকরা আশাবাদী। তবে এই অঞ্চলটি বন্য প্রাণীদের আবাসস্থল হওয়ায় কৃষকরা সবসময় সতর্ক থাকেন।
স্থানীয় কৃষকরা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, ধানের সবুজ দৃশ্য দেখে মন ভালো লাগলেও বন্য হাতির আতঙ্ক তাদের মনে বসবাস করে। হাতিরা মাঝে মাঝে জমিতে ঢুকে ধান গাছ নষ্ট করে দেয়, যা কৃষকদের জন্য বড় ক্ষতি। জনজীবনে এই আতঙ্ক প্রভাব ফেলছে, কারণ কৃষকরা রাতে জমিতে থাকতে পারেন না। স্থানীয় বাসিন্দারা কর্তৃপক্ষের কাছে বন্য প্রাণীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, বন্য হাতির আতঙ্ক কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের সমন্বয়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে হাতি দমনে বিশেষ দল পাঠানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কৃষকদের নিরাপত্তা ও ফলন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।