সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ফারুক সোবহান গতকাল জাতীয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম সম্পদ হল বিদেশে বসবাসরত বিশাল সংখ্যক বাংলাদেশি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই মানবসম্পদকে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য যথাযথভাবে ব্যবহার করা না হলে বর্তমান প্রবৃদ্ধি মডেলটি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দেবে। সোবহানের এই মন্তব্য দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তৎক্ষণাৎ আলোড়ন সৃষ্টি করে, কারণ এটি দেশের মানবসম্পদ নীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়।
বহিরাগত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১.৫ কোটি, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় দশ ভাগেরও বেশি। ঐতিহাসিকভাবে, এই সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংযোগের প্রচেষ্টা সীমিত ও বিচ্ছিন্ন ছিল; কেবলমাত্র পাসপোর্ট, ভোটার তালিকা এবং কিছু সাংস্কৃতিক ইভেন্টের মাধ্যমে সীমিত যোগাযোগ বজায় রাখা হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের মুদ্রা প্রবাহে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সত্ত্বেও, তাদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে সরাসরি দেশের উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা হয়নি। সোবহান এই পটভূমি তুলে ধরে, বিদেশে বসবাসরত পেশাজীবী, উদ্যোক্তা ও গবেষকদের সঙ্গে সমন্বিত নীতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
ফারুক সোবহানের মন্তব্যের পর সরকারী কর্মকর্তারা দ্রুতই প্রতিক্রিয়া জানিয়ে, বিদেশি বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন এবং বিনিয়োগের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তরুণ সমাজের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে; অনেক যুবক-যুবতী এখন তাদের ক্যারিয়ার গড়তে বিদেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। একাধিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকও উল্লেখ করেন, যদি সঠিকভাবে মানবসম্পদকে কাজে লাগানো যায়, তবে দেশের উৎপাদনশীলতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। তবে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই উদ্যোগকে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থের প্রশ্নে চ্যালেঞ্জ করে, যা নীতি প্রণয়নে জটিলতা বাড়াতে পারে।
এখন পর্যন্ত সরকার বিদেশি বাংলাদেশিদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি সমন্বিত ডাটাবেস তৈরি করেছে এবং তাদের দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন সেক্টরে কাজের সুযোগ প্রদান করার জন্য একটি বিশেষ কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশনটি রেমিট্যান্সের পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তর, গবেষণা সহযোগিতা এবং উদ্যোক্তা সমর্থনকে কেন্দ্র করে নীতি প্রণয়ন করবে। ভবিষ্যতে, বিদেশি বাংলাদেশিদের জন্য একক পোর্টাল চালু করা হবে, যেখানে তারা সরাসরি সরকারি প্রকল্পে অংশগ্রহণ, বিনিয়োগের সুযোগ এবং প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম সম্পর্কে তথ্য পাবে। এ ধরনের কাঠামোগত পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের প্রচলিত প্রবৃদ্ধি মডেলকে রূপান্তরিত করে, তরুণ প্রজন্মের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং জাতীয় উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করার আশা করা হচ্ছে।