গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙামাটি উপজেলার এক গ্রামে সন্ধ্যাবেলা হঠাৎ বজ্রপাতের ফলে এক কিশোরের বন্ধুর প্রাণহানি ঘটে। বজ্রের আঘাতে কিশোরের বন্ধু তৎক্ষণাৎ মৃত অবস্থায় পড়ে, আর ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিশোরটি শোক ও আতঙ্কে মুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। স্থানীয়দের মতে, বজ্রপাতের সময় আকাশে গর্জন ও আলো ঝলকায়, এবং এক মুহূর্তে ছেলেটি তার বন্ধুর শেষ নিঃশ্বাস শ্বাসে শোনে। এই দুঃখজনক ঘটনা পুরো গ্রামকে শোকময় করে তুলেছিল এবং কিশোরের মানসিক অবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
বছরের পর বছরই গ্রামটি কৃষিকাজ ও গাছ রোপণের ঐতিহ্যবাহী ভূমিতে পরিচিত, যেখানে তরুণদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণে আগ্রহ বাড়ছে। এই কিশোর, নাম রাহিম, তার পরিবারে চাষাবাদে জড়িত এবং ছোটবেলা থেকেই গাছ রোপণকে সেবা হিসেবে দেখেছে। বন্ধুর মৃত্যুর পর, রাহিমের মধ্যে এক ধরনের আত্মিক প্রতিশ্রুতি জন্ম নেয় যে তিনি জীবনের ক্ষতি পূরণ করতে পারবে না, তবে প্রকৃতির মাধ্যমে নতুন জীবন দান করতে পারেন। তাই তিনি নিজ উদ্যোগে গ্রামজুড়ে তালবীজ সংগ্রহ করে রোপণ শুরু করেন, যা তার শোককে সান্ত্বনা ও পুনর্নবীকরণে রূপান্তরিত করে।
রাহিমের এই উদ্যোগের কথা শোনার পর গ্রামবাসীরা তৎক্ষণাৎ সমর্থন জানায়। তার মা, ফাতেমা বেগম, বলেন, “আমার ছেলে এত বড় ক্ষতি সহ্য করে, তবু তিনি গাছ রোপণের মাধ্যমে জীবনের নতুন সূচনা করতে চায়; এটাই প্রকৃত মানবিকতা।” স্থানীয় স্কুলের শিক্ষক হাবিবুল হকও মন্তব্য করেন, “রাহিমের কাজ তরুণদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা জাগ্রত করবে এবং অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।” ইতিমধ্যে রাহিম ২১,০০০টি তালবীজ রোপণ সম্পন্ন করেছেন; রোপণকৃত গাছগুলো গ্রামপ্রান্তের শুষ্ক ভূমিতে রোপিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মাটি সংরক্ষণ ও আয়ুর্বেদিক ঔষধের উৎস হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকারও রাহিমের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়ে সহায়তা প্রদান করেছে। গ্রাম উন্নয়ন অফিসের প্রধান, মো. রশিদুল ইসলাম জানান, “রাহিমের উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করছি এবং অতিরিক্ত তালবীজ সরবরাহের পাশাপাশি রোপণকৃত গাছের রক্ষণাবেক্ষণে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি।” রাহিমের লক্ষ্য ৩০,০০০ তালবীজ রোপণ করা, এবং তিনি আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই লক্ষ্য পূরণে কাজ চালিয়ে যাবেন। সরকারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, রোপিত গাছগুলোকে ভবিষ্যতে গ্রাম্য পরিবেশ প্রকল্পের মূলধন হিসেবে ব্যবহার করা হবে, যা গ্রামটির সবুজায়ন ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।