প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

টোকিও চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সিনেমা

টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৩৯তম আসরের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ স্থান পেয়েছে। রুবাইয়াৎ হোসেনের
প্রতিবেদক: CHANNEL A1 TV LTD. প্রকাশ: Oct 2, 2026 প্রিন্ট: 12 Oct 2026, 08:37 AM
টোকিও চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সিনেমা

টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৩৯তম আসরের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ স্থান পেয়েছে। রুবাইয়াৎ হোসেনের এই কাজটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের স্বীকৃতি অর্জনের নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উৎসবের বিশাল দর্শকসংখ্যা এবং বিশ্বব্যাপী মিডিয়ার দৃষ্টি এই নির্বাচনের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। চলচ্চিত্রটি সামাজিক বর্ণনা ও নারীর স্বায়ত্তশাসনকে কেন্দ্র করে নির্মিত, যা আন্তর্জাতিক সমালোচকদের দৃষ্টিতে সমসাময়িক সমস্যার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। এই অর্জন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের গ্লোবাল মানচিত্রে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করেছে।

‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ রুবাইয়াৎ হোসেনের দশম চলচ্চিত্র, যা বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে বধূবধূতাদের সম্মুখীন হওয়া সামাজিক বাধা ও পারিবারিক দ্বন্দ্বকে বাস্তবিকভাবে উপস্থাপন করে। চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রুবাইয়াৎ নিজেই রচনা করেছেন, এবং স্থানীয় অভিনেতা-অভিনেত্রদের সঙ্গে মিলিয়ে স্বতন্ত্র শৈলীতে নির্মিত হয়েছে। পূর্বে হোসেনের ‘শহরী গৃহিণী’ ও ‘আশা’ আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রশংসা পেয়েছে, তবে এই কাজটি প্রথমবারের মতো মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রবেশ করেছে। দেশের চলচ্চিত্র নীতি ও বিনিয়োগের ঘাটতি সত্ত্বেও, স্বতন্ত্র সৃজনশীলতা ও দৃঢ় দৃষ্টিভঙ্গি এই প্রকল্পকে সফল করেছে।

উৎসবের পরিচালক কিয়োশি তাকাহাশি এই চলচ্চিত্রকে “বৈশ্বিক নারীর স্বায়ত্তশাসনের প্রতীক” বলে প্রশংসা করেন এবং রুবাইয়াৎকে “বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী” হিসেবে উল্লেখ করেন। রুবাইয়াৎ হোসেন নিজে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এই স্বীকৃতি আমাদের শিল্পীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দরজা খুলে দেবে।” স্থানীয় দর্শক ও চলচ্চিত্র সমালোচকরা চলচ্চিত্রের সূক্ষ্ম চরিত্র বিশ্লেষণ ও দৃশ্যমান রঙের ব্যবহারকে উচ্চ প্রশংসা করেন। সামাজিক মিডিয়ায় চলচ্চিত্রের ট্রেইলার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং হাজারো মন্তব্যে সমর্থন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অধিদপ্তর এই সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মেলায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। সরকার নতুন ফিল্ম ফান্ড স্থাপন এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার মাধ্যমে তরুণ নির্মাতাদের সমর্থন বাড়াবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি, টোকিও উৎসবে নির্বাচিত চলচ্চিত্রের প্রচারমূলক কার্যক্রম দেশীয় টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচার করা হবে, যা স্থানীয় দর্শকদের আন্তর্জাতিক মানের কাজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে। ভবিষ্যতে আরও বেশি বাংলাদেশি চলচ্চিত্র মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উঁচুতে রয়েছে, যা দেশের সংস্কৃতি ও সৃজনশীল শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.