প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
সারাদেশ

এএসপি আব্দুস ছালামকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস ছালামকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তানোর ও গোদাগাড়ীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের দাবি, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে কঠোর অবস্থানের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হতে পারে।
প্রতিবেদক: CHANNEL A1 TV LTD. প্রকাশ: Sep 26, 2026 প্রিন্ট: 12 Oct 2026, 07:44 AM
এএসপি আব্দুস ছালামকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ
ছবি: এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস ছালাম।
হামিদুর,তানোর রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস ছালামকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তানোর ও গোদাগাড়ীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে। এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, এএসপি আব্দুস ছালাম গোদাগাড়ী সার্কেলে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাদকবিরোধী কার্যক্রমে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তাঁর নেতৃত্ব ও তদারকিতে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় মাদকসংশ্লিষ্টদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন। তানোর ও গোদাগাড়ীর কয়েকজন সচেতন নাগরিক বলেন, এএসপি আব্দুস ছালাম একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে এলাকায় কাজ করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তাঁদের দাবি, মাদকবিরোধী তৎপরতার কারণে যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের কেউ কেউ নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় পুলিশ কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করতে পারে।
‘মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় অস্বস্তিতে মাদকসংশ্লিষ্টরা’
সচেতন নাগরিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাদক একটি বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে তানোর ও গোদাগাড়ী অঞ্চলের মানুষের উদ্বেগের কারণ। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী তৎপরতা সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁদের ভাষ্য, এএসপি আব্দুস ছালামের দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই চাপে পড়েছেন। ফলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় কোনো কোনো ব্যক্তি বা মহল তাঁর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালাতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন।
তবে এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি হিসেবে উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, কোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য যথাযথ তদন্ত ও যাচাই প্রয়োজন।
‘সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক’ তানোর ও গোদাগাড়ীর কয়েকজন সচেতন নাগরিক বলেন, ‘আমরা চাই একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন। এএসপি আব্দুস ছালাম যোগদানের পর মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে।’
তাঁরা আরও বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। কিন্তু যাচাই-বাছাই ছাড়াই কোনো পক্ষের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে সংবাদ প্রকাশ করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
‘অভিযোগ থাকলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত প্রয়োজন’
সচেতন নাগরিকদের মতে, সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হলো কোনো অভিযোগ বা তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্য যাচাই করা। একই সঙ্গে কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তাঁদের বক্তব্য, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে যেমন উপেক্ষা করা উচিত নয়, তেমনি তদন্তের আগেই অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করাও সমীচীন নয়।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইন ও বিধিমালা রয়েছে। কোনো অভিযোগ বা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের আগে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রকাশিত সংবাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দাপ্তরিক কোনো নির্দেশনা বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠভাবে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান
এদিকে এএসপি আব্দুস ছালামকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তানোর ও গোদাগাড়ীর সচেতন নাগরিকরা সাংবাদিকদের আরও সতর্কতার সঙ্গে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
তাঁদের বক্তব্য, কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি সংবাদে তুলে ধরার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য, পুলিশ প্রশাসনের অবস্থান এবং অভিযোগের প্রমাণ-উপাত্তও যাচাই করা প্রয়োজন। এতে সংবাদ আরও নির্ভরযোগ্য ও বস্তুনিষ্ঠ হবে।
তাঁরা বলেন, ‘একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে অবশ্যই তদন্ত হোক। সত্য-মিথ্যা যাচাই হোক। অভিযোগ সত্য হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আবার অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও পরিষ্কার হওয়া দরকার। কিন্তু মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে যদি কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হেয় করার চেষ্টা করে, সেটিও কাম্য নয়।’
মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি
তানোর-গোদাগাড়ীর সচেতন নাগরিকদের দাবি, মাদকবিরোধী কার্যক্রম কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকেন্দ্রিক বিষয় নয়; এটি একটি সামাজিক ও জননিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এএসপি আব্দুস ছালামের নেতৃত্বে গোদাগাড়ী সার্কেলে মাদকবিরোধী অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, মাদকমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। তবে সেই ভূমিকা যেন আইন, বিধি ও যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্যেই পরিচালিত হয়—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.