সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন শহরে স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিভাবক সমিতিগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষত পরীক্ষার সময়, ক্যারিয়ার নির্বাচন এবং সামাজিক মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শের সময়সীমা নির্ধারণ করা জরুরি, কারণ সময়মত হস্তক্ষেপ না করলে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ একত্রে একটি সচেতনতা কর্মসূচি চালু করেছে, যাতে অভিভাবকরা কী মুহূর্তে পেশাদার সাহায্য নিতে হবে তা স্পষ্টভাবে জানেন।
মানসিক স্বাস্থ্যের এই জরুরি সমস্যার পটভূমি বহু বছর আগে থেকেই বিদ্যমান। পূর্বে মানসিক রোগকে সামাজিক কলঙ্কের দৃষ্টিতে দেখা হতো, ফলে রোগী ও পরিবার গোপনে সমস্যার সমাধান খুঁজে নিত। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশব ও কিশোর বয়সে মানসিক সমস্যার সঠিক সনাক্তকরণ ও হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী মানসিক রোগের হার কমাতে পারে। এছাড়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য নীতি অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে মানসিক স্বাস্থ্য সেবার প্রাথমিক স্তরে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা উচিত। এই নীতিগত দৃষ্টিকোণই বর্তমান উদ্যোগের ভিত্তি।
প্রধান শিক্ষকমণ্ডলীর মুখপাত্র ড. রেহানা বলছেন, “যদি কোনো শিশুর ঘুমের ধরণ বদলে যায়, খাবার খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা যায়, অথবা হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগে অনীহা প্রকাশ করে, তবে তা মানসিক সমস্যার সূচক হতে পারে।” অভিভাবক সমিতির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমানও যোগ করেছেন, “যদি সন্তান অতিরিক্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে, আত্মবিশ্বাস হারায়, অথবা হঠাৎ করে আত্মহত্যার কথা বলে, তাৎক্ষণিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।” পরিবারে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, বেশ কিছু পিতামাতা ইতিমধ্যে স্কুলের কাউন্সেলিং সেবা ব্যবহার করে সন্তানের মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় থেরাপি গ্রহণ করছেন।
অধিকাংশ জেলা স্বাস্থ্য অফিস এখন মানসিক স্বাস্থ্য ক্লিনিকের সংখ্যা বাড়াচ্ছে এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়মিত সাপ্তাহিক সেশন চালু করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে, সকল পাবলিক ও প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে, সরকার শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের রেকর্ড ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষণ করে, অভিভাবক ও শিক্ষকের সঙ্গে রিয়েল‑টাইম শেয়ার করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে দ্রুত সনাক্তকরণ ও হস্তক্ষেপ সম্ভব হয়। এই পদক্ষেপগুলো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার প্রাথমিক সনাক্তকরণে সহায়তা করবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করবে।