প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Channel A1 TV
Channel A1 TV
Channel A1 TV QR Code
আন্তজাতিক

ব্রিকসের নতুন রূপ: বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ নতুন অর্ডারের দাবি

বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্রিকস জোটের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা
প্রতিবেদক: CHANNEL A1 TV LTD. প্রকাশ: Sep 13, 2026 প্রিন্ট: 14 Oct 2026, 12:20 PM
ব্রিকসের নতুন রূপ: বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ নতুন অর্ডারের দাবি

বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্রিকস জোটের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর একক আধিপত্যের বিপরীতে ব্রিকস দেশগুলো একটি বহুপাক্ষিক ও ভারসাম্যপূর্ণ বৈশ্বিক ব্যবস্থার দাবি তুলে ধরছে। সাম্প্রতিক সময়ে জোটের সদস্যপদ সম্প্রসারণ এবং নতুন কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্রিকসকে আরও একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে। এই নতুন রূপান্তরের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে ভারসাম্য আনতে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিকসের এই সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ কেবল একটি অর্থনৈতিক ঘটনা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক শক্তি বণ্টনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যা পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে উঠে দাঁড়িয়েছে।

ব্রিকস জোটের গঠনের পটভূমি ছিল ২০০৬ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পরবর্তীকালীন সময়, যখন ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা এই পাঁচটি দেশ একত্রিত হয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের প্রভাব বাড়াতে চায়। প্রাথমিকভাবে এই জোটটি ছিল একটি অফিসিয়াল ফোরাম, যেখানে সদস্য দেশগুলোর নেতারা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রস্তাব উত্থাপন করতেন। তবে সময়ের সাথে সাথে ব্রিকসের কার্যক্রম অর্থনীতির বাইরে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতেও সম্প্রসারিত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরব আমিরেট, ইরান, ইথিওপিয়া, মিশর ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে জোটটির ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবশালিতা বহুগুণ বেড়েছে। এই সম্প্রসারণের ফলে ব্রিকস এখন বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এবং বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করছে, যা তাদের বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি অস্বীকারযোগ্য শক্তিতে পরিণত করেছে।

ব্রিকসের এই নতুন রূপ ও শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা ও বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর নেতারা ব্রিকসকে বিশ্বের ন্যায্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে দেখছেন, যা তাদের স্বাধীন অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, পশ্চিমা দেশগুলো এই সম্প্রসারণকে তাদের বৈশ্বিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে এবং ব্রিকসের কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। জনজীবনে এর প্রভাব হিসেবে বলা যায়, ব্রিকসের কার্যক্রমের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীর হচ্ছে এবং নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দরজা খুলে যাচ্ছে। তবে, ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পার্থক্যগুলো কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সমাধান করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতভেদ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকিগুলো জোটের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

কর্তৃপক্ষের বর্তমান পদক্ষেপ হিসেবে ব্রিকস দেশগুলো নতুন করে একটি ব্রিকস ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং একটি জরুরি প্রিজার্ভ ফান্ডের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করছে। এছাড়াও, ব্রিকস দেশগুলো তাদের মধ্যে বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহারের মাধ্যমে ডলারের নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে, ব্রিকসের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে এবং এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রযুক্তি উন্নয়ন খাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে, ব্রিকসের সফলতা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, সহযোগিতা ও রাজনৈতিক ঐক্যের ওপর। যদি ব্রিকস দেশগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ পার্থক্যগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সমাধান করতে পারে এবং একটি সুসংগঠিত ও কার্যকরী নীতিমালা প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়, তবে এটি বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

© 2026 Channel A1 TV. All rights reserved.