সোমবার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপকূলে একটি ছোট নৌকা বিপর্যস্ত হয়ে ১০ জন বাংলাদেশি যাত্রীকে ভারতীয় জলসীমায় নিয়ে যায়। নৌকার যাত্রা ছিল চট্টগ্রাম থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পথে, কিন্তু হঠাৎ স্রোতে ধরা পড়ে নৌকাটি ভেঙে যায়। পানির তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে যাত্রীরা দ্রুত হিমায়িত হয়ে পড়েন। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একটি স্পিডবোট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জীবিত উদ্ধার করে এবং নিরাপদে ভারতীয় তীরে নিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন দুইজন মহিলা, তিনজন শিশু ও পাঁচজন পুরুষ।
এই দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে আংশিকভাবে অপ্রতুল আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং নৌকার পুরনো অবস্থা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপকূলীয় এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ছোট নৌকা বিপর্যস্ত হয়েছে, যা স্থানীয় বাণিজ্যিক ও পর্যটন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে। নৌকাটির মালিকরা জানিয়েছে যে যাত্রা শুরু হওয়ার আগেই স্রোতে ধরা পড়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তদুপরি, নৌকার ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়, যা দ্রুত পরিস্থিতি খারাপ করে তোলে।
বিএসএফের প্রধান কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করি এবং সকল যাত্রীকে নিরাপদে ভারতীয় তীরে নিয়ে যাই। বাংলাদেশি যাত্রীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” বাংলাদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধি, যিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, জানান, “আমরা দ্রুতই যাত্রীদের হস্তান্তর নিশ্চিত করেছি এবং তাদের পরিবারকে অবহিত করেছি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করতে হবে।” যাত্রীদের পরিবারগুলো ঘটনাটি দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে উভয় দেশের সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছে।
অধিকারে, বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী একটি যৌথ টহল গঠন করেছে, যা ভবিষ্যতে সমুদ্রসীমা অতিক্রমকারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নতুন প্রোটোকল তৈরি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে রিয়েল‑টাইম স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা। ভারতীয় পক্ষও সমুদ্রসীমা অতিক্রমকারী নৌকার জন্য জরুরি উদ্ধার কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। উভয় দেশই আগামী মাসগুলোতে নিয়মিত সমন্বিত মহড়া চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় প্রতিরোধ করা যায়।