মোজতবা খামেনি, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছেন, তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি ঢাকা শহরের সেনাবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। উপস্থিত ছিলেন প্রধান জেনারেল, উপ-সচিব এবং বিভিন্ন শাখার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যারা খামেনির সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা নীতি, সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা এবং সামরিক‑সিভিল সমন্বয় সম্পর্কে আলোচনা করেন। এই বৈঠকটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন সমন্বয় ও সমঝোতার সূচনা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
বৈঠকের পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলা ও সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ার ফলে সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজনীয়তা তীব্রতর হয়েছে। মোজতবা খামেনি, যিনি পূর্বে মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজে সক্রিয় ছিলেন, এখন রাজনৈতিক মঞ্চে তার উপস্থিতি শক্তিশালী করতে এবং নিরাপত্তা নীতি গঠনে ভূমিকা রাখতে চেয়েছেন। এই বৈঠকটি তার রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা যায়, যেখানে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে তার নীতি প্রস্তাবনা সমর্থন পেতে চেয়েছেন।
বৈঠকের পরে মোজতবা খামেনি একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অপরিহার্য। আমরা সকল রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে একত্রে কাজ করে দেশের শৃঙ্খলা রক্ষা করব।” সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেলও একই রকম মন্তব্য করে, “সিভিল নেতৃত্বের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।” এই বক্তব্যগুলো দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে; কিছু গোষ্ঠী সমন্বয়কে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানায়, অন্যদিকে কিছু সমালোচক সমন্বয়ের স্বচ্ছতা ও স্বতন্ত্রতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সামগ্রিকভাবে, এই বৈঠকটি দেশের নিরাপত্তা নীতি গঠনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের বর্তমান পদক্ষেপের মধ্যে বৈঠকের পরপরই একটি যৌথ নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার সদস্য হিসেবে মোজতবা খামেনি, সেনাবাহিনীর প্রধান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রধানরা অন্তর্ভুক্ত। এই কমিটি আগামী মাসে প্রথম সভা করে দেশের নিরাপত্তা কৌশল, সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং সিভিল‑সেনা সমন্বয়ের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি, সরকার নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের প্রস্তাবনা দ্রুত কার্যকর করার জন্য বিশেষ আইনসভা কমিটি গঠন করেছে। ভবিষ্যতে এই সমন্বয় কাঠামো দেশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক হবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।