পদুচেরি উপকূলে গত রাতের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ প্রবল বায়ু ও ভারী বৃষ্টির সঙ্গে আঘাত হেনেছে। মেটেরোলোজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের গতি ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা অতিক্রম করেছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩.৫ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পদুচেরি, হাবিগঞ্জ ও আশেপাশের গ্রামগুলোতে ব্যাপক বন্যা, গৃহবিনাশ ও সড়ক বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জরুরি সতর্কতা জারি করে রেসকিউ টিমকে মোতায়েন করেছে এবং প্রভাবিত এলাকায় অস্থায়ী শরণার্থী শিবির গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছে।
‘অর্ণব’ ঘূর্ণিঝড়টি পূর্ব ভারতীয় মহাসাগরে গঠিত হয় এবং পূর্ব দিক থেকে পশ্চিমে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের পথে ছিল। পূর্ব ভারতের ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে গত দুই দিন ধরে তীব্র বৃষ্টিপাতের রেকর্ড তৈরি করেছে; কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ২৫০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এই বৃষ্টিপাতের ফলে নদী ও নালার জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে পদুচেরি উপকূলে স্যালিনিটি বৃদ্ধি পেয়ে কৃষি জমিতে ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের গঠন ও গতিপথের বিশ্লেষণে দেখা যায়, উষ্ণ সমুদ্রের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও নিম্নচাপের সংমিশ্রণই ‘অর্ণব’কে এত তীব্র করে তুলেছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব সম্পর্কে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানানো হয়েছে যে, পদুচেরি উপজেলা মহাপরিচালক শ্রীমতি রেহানা বেগমের মতে, “বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎকালীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে এখনও অনেক পরিবার অস্থায়ী শিবিরে বাস করছে এবং মৌলিক জলের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।” তদুপরি, কৃষক সমিতির প্রতিনিধি মি. হাবিবুর রহমান জানান, “বৃষ্টির ফলে ধান ক্ষেতের শিকড় ভেজে গিয়ে গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ফলে ফসলের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।” সাধারণ জনগণের উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে, স্থানীয় বাজারে মূল্যের বৃদ্ধি ও সরবরাহের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, বিশেষত মাছ ও সবজির দাম বেড়েছে।
অবস্থা নিয়ন্ত্রণে সরকার ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDRF) এবং বাংলাদেশ সিভিল ডিফেন্স ফোর্স (BCDF) একত্রে রেসকিউ অপারেশন চালু করেছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী, খাবার ও চিকিৎসা সরবরাহের জন্য অস্থায়ী শিবিরে পৌঁছে দিচ্ছে। পাশাপাশি, মন্ত্রণালয় অবিলম্বে বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এবং ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নগর পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, ‘অর্ণব’ ঘূর্ণিঝড়ের মতো চরম আবহাওয়া ঘটনায় দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট, তাই সরকারকে জলবায়ু অভিযোজন নীতি ত্বরান্বিত করতে হবে।