গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের বাণিজ্য মেলায় সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদে শেকৃবির শিক্ষার্থীরা মঞ্চে উঠে দাঁড়ালেন। তারা মেলায় উপস্থিত যন্ত্রাংশ ও দুইটি গাড়ি দখল করে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এই ঘটনাটি তৎক্ষণাৎ দেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে এবং জনমতকে উন্মুক্ত করে দেয় যে, সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতি নাগরিকের প্রত্যাশা ও অধিকার রক্ষার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা মূলত ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে অতিরিক্ত যানজট ও পরিবেশগত সমস্যার সমাধানের জন্য করা হয়েছিল। তবে এই পরিকল্পনা পূর্বে বহুবার সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্য মেলার মাঠ, যা প্রতি বছর দেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক প্রদর্শনী হিসেবে পরিচিত, সেখানে এই ধরনের সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন স্থানীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অতএব, শেকৃবির শিক্ষার্থীরা এই ব্যাকগ্রাউন্ডকে বিবেচনা করে তাদের প্রতিবাদকে অধিকতর প্রাসঙ্গিক করে তোলেন।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মুখে স্পষ্ট ছিল তাদের দৃঢ় সংকল্প। তারা জানিয়েছেন, “সচিবালয় স্থানান্তর আমাদের শহরের পরিবেশ ও অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, তাই আমরা এই অবৈধ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে লড়াই করব।” অন্যদিকে, মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা বলছেন, “প্রকল্পটি দেশের উন্নয়নের স্বার্থে করা হয়েছে এবং যথাযথ পরামর্শের পরই এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।” সাধারণ জনগণও দুই পাশে বিভক্ত, কেউ শিক্ষার্থীদের সমর্থন করে, আবার কেউ সরকারী পরিকল্পনার পক্ষে মত প্রকাশ করে। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার ব্যাপক আলোচনা দেখা যায়, যেখানে নাগরিক অধিকার ও সরকারি নীতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক গড়ে উঠেছে।
অধিকর্তা পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে গাড়ি ও যন্ত্রাংশ ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারী দপ্তরও স্থানান্তর পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে, স্থানীয় ব্যবসায়িক স্বার্থ ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করে নতুন রূপরেখা তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে, এধরনের বড় প্রকল্পের আগে জনসাধারণের সঙ্গে পরামর্শ ও সমন্বয় নিশ্চিত করার জন্য একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে, যাতে নাগরিকদের অধিকার রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে উন্নয়নের লক্ষ্যও পূরণ হয়।