প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Channel A1 Tv Ltd.
Channel A1 TV
Channel A1 TV QR Code
জাতীয়

‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সর্বশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শফিকুল ইসলাম গাজী রোজা উল্লেখ করেছেন যে, দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে ‘ক্রসফায়ার’ ঘটনার কোনো সহনশীলতা থাকবে না এবং আইজিপি (ইন্টারনাল
প্রতিবেদক: CHANNEL A1 TV LTD. প্রকাশ: Oct 27, 2026 প্রিন্ট: 29 Oct 2026, 06:47 AM
‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সর্বশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শফিকুল ইসলাম গাজী রোজা উল্লেখ করেছেন যে, দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে ‘ক্রসফায়ার’ ঘটনার কোনো সহনশীলতা থাকবে না এবং আইজিপি (ইন্টারনাল জেনারেল অব পুলিশ) কর্তৃক করা মন্তব্য যথাযথ নয়। তিনি জোর দিয়ে বললেন, ক্রসফায়ার ঘটনার পরিণতি শুধুমাত্র শিকারীর পরিবার নয়, পুরো সমাজের নিরাপত্তা ও ন্যায়ের ওপর প্রভাব ফেলে। এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।

‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে এসেছে। অতীতে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবিদ্ধে সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার পর তদন্তের অভাব, স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং দায়িত্বশীলদের ওপর যথাযথ শাস্তি না হওয়ায় জনমত ক্রমশ তীব্রতর হয়েছে। আইনের আওতায় ‘ক্রসফায়ার’কে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার জন্য আইনসভার আলোচনাও চলছিল, তবে বাস্তবায়নে নানা বাধা দেখা দিয়েছে।

মন্তব্যের পরপরই আইজিপি শ্রীমতি রেহানা বেগমের বক্তব্যে স্পষ্টতা দাবি করেছেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে, গুলিবিদ্ধের সব ক্ষেত্রে ‘ক্রসফায়ার’ বলা সঠিক নয় এবং প্রতিটি ঘটনার আলাদা আলাদা বিশ্লেষণ প্রয়োজন। তবে মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশ’ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই মন্তব্যকে ‘দায়িত্ব এড়ানো’ হিসেবে সমালোচনা করেছে। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই বিষয়ে উদ্বেগের স্রোত প্রবাহিত হয়েছে; সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করা পোস্টগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর আস্থা হ্রাসের ইঙ্গিত দেখা যায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে সরকার তৎক্ষণাৎ একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যার সদস্য হিসেবে আইনি বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার কর্মী এবং নিরাপত্তা বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কমিটি দ্রুতগতিতে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং গুলিবিদ্ধের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ডিএসডি (ডিজিটাল সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট)কে তথ্য প্রকাশের দায়িত্ব দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইনসভার মাধ্যমে ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বিশেষ আইন প্রণয়নের সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

© 2026 Channel A1 TV. All rights reserved.