প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Channel A1 Tv Ltd.
Channel A1 TV
Channel A1 TV QR Code
অপরাধ

বনরক্ষীদের দেখে মাংস ফেললেন খালের পানিতে, নৌকা থেকে হরিণের মাথা-কলিজা উদ্ধার

গত রাত্রি গাজীপুরের এক দূরবর্তী বনের প্রান্তে অবস্থিত খালপাড়ে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। বনরক্ষীরা শিকারের চিহ্ন অনুসরণ করে নৌকায় পৌঁছানোর মুহূর্তে দুজন শিকারের
প্রতিবেদক: CHANNEL A1 TV LTD. প্রকাশ: Oct 20, 2026 প্রিন্ট: 22 Oct 2026, 09:02 AM
বনরক্ষীদের দেখে মাংস ফেললেন খালের পানিতে, নৌকা থেকে হরিণের মাথা-কলিজা উদ্ধার

গত রাত্রি গাজীপুরের এক দূরবর্তী বনের প্রান্তে অবস্থিত খালপাড়ে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। বনরক্ষীরা শিকারের চিহ্ন অনুসরণ করে নৌকায় পৌঁছানোর মুহূর্তে দুজন শিকারেরা হঠাৎই হরিণের মাংস নৌকা থেকে খালের পানিতে ফেলে দেন। নৌকায় হরিণের মাথা ও কলিজা, শিকারের ফাঁদসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়। শিকারেরা মধ্যে একজন তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, অন্যজনকে দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দা ও বনকর্মীদের মধ্যে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করে এবং পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরে।

বাংলাদেশে বন্যপ্রাণীর অবৈধ শিকারের সমস্যা দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ। হরিণ, চিতাবাঘ ও অন্যান্য সংরক্ষিত প্রজাতি প্রায়ই গোপনীয় ফাঁদ ও গুলির মাধ্যমে শিকার করা হয়। বিশেষ করে গাজীপুর, সিলেট ও চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় শিকারের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। পূর্বে একই অঞ্চলে অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে, যেখানে শিকারেরা রপ্তানি বাজারের জন্য মাংস বিক্রি করত। বন বিভাগ ও পুলিশ সমন্বয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সত্ত্বেও শিকারেরা নতুন কৌশল ব্যবহার করে ধরা পড়া থেকে বাঁচার চেষ্টা করে। এই ঘটনার পটভূমি বোঝা যায় যে, শিকারেরা বনরক্ষীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করে তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে মাংস পানিতে ফেলে দিয়ে প্রমাণ লুকাতে চেয়েছে।

ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় বনরক্ষী শিবলাল দত্ত জানান, “শিকারেরা যখন আমাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করে, তখন তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। আজকের মতো মাংস পানিতে ফেলা একটি নতুন কৌশল ছিল।” পুলিশ কর্মকর্তা রমেশ চৌধুরী জানান, “শিকারেরা ধরা পড়ার পরই তাদের অপরাধের প্রকৃতি প্রকাশ পায়। আমরা ফাঁদ, বন্দুক এবং অন্যান্য শিকারের সরঞ্জাম জব্দ করেছি।” স্থানীয় পরিবেশ সংস্থা ‘প্রকৃতি রক্ষা’ দলের সভাপতি সুমাইয়া রায় মন্তব্য করেন, “এ ধরনের ঘটনা আমাদের সতর্ক করে দেয় যে, বন্যপ্রাণীর সুরক্ষার জন্য জনসচেতনতা ও কঠোর আইন প্রয়োগ অপরিহার্য।” বাসিন্দারা শিকারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি চায় এবং বন সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত নজরদারি দাবি করে।

অধিকর্তারা ইতিমধ্যে শিকারের ওপর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে ফেলেছেন। শিকারের জব্দকৃত সরঞ্জাম ও ফাঁদ বিশ্লেষণ করে শিকারের নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত করা হবে। বন বিভাগ ভবিষ্যতে আরও আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি, যেমন ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরা, স্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে বন্যপ্রাণীর সুরক্ষার জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করা হবে। এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ শিকারেরা পুনরায় একই রকম অপরাধে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত রাখবে এবং দেশের বন্যপ্রাণীর ভবিষ্যৎ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

© 2026 Channel A1 TV. All rights reserved.