প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Channel A1 Tv Ltd.
Channel A1 TV
Channel A1 TV QR Code
বিনোদন

বাংলাদেশকে তাচ্ছিল্য দোকানির, জবাবে কী করলেন আইয়ুব বাচ্চু

১৯৯৮ সালে নিউইয়র্কে একটি আন্তর্জাতিক সঙ্গীত কনসার্টে অংশগ্রহণের পর, জনপ্রিয় গায়ক‑গিটারবাদক আইয়ুব বাচ্চু একটি শপিং মলে গিটার প্রদর্শনী দেখার জন্য প্রবেশ করেন
প্রতিবেদক: CHANNEL A1 TV LTD. প্রকাশ: Oct 18, 2026 প্রিন্ট: 20 Oct 2026, 05:21 AM
বাংলাদেশকে তাচ্ছিল্য দোকানির, জবাবে কী করলেন আইয়ুব বাচ্চু

১৯৯৮ সালে নিউইয়র্কে একটি আন্তর্জাতিক সঙ্গীত কনসার্টে অংশগ্রহণের পর, জনপ্রিয় গায়ক‑গিটারবাদক আইয়ুব বাচ্চু একটি শপিং মলে গিটার প্রদর্শনী দেখার জন্য প্রবেশ করেন। মলের বৃহৎ গিটার দোকানে তিনি নতুন ব্র্যান্ডের গিটারগুলো হাতে তুলে পরীক্ষা করতে চাইলেন। দোকানের একজন কর্মী হঠাৎ করে বাংলাদেশের প্রতি তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য করে, "বাংলাদেশের গিটার বাজানো মানে কী?" বলে উপহাসমূলক সুরে প্রশ্ন তুললেন। এই মন্তব্যের ফলে উপস্থিত দর্শক ও কর্মচারীরা অবাক হয়ে গেল, আর আইয়ুব বাচ্চু তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পদক্ষেপ নিলেন।

আইয়ুব বাচ্চুর গিটারের প্রতি গভীর আসক্তি ১৯৯৮ সালের নিউইয়র্ক সফরের আগে থেকেই স্পষ্ট ছিল। তিনি তরুণ বয়সে স্থানীয় গিটার শপে বিভিন্ন মডেল পরীক্ষা করে শৈল্পিক দক্ষতা অর্জন করেন এবং দেশের সীমান্ত পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নামার স্বপ্ন দেখতেন। নিউইয়র্কে কনসার্টের পর গিটার দোকানে প্রবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন প্রযুক্তি ও ডিজাইন সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজের সঙ্গীত যন্ত্রের মান উন্নত করা। এই প্রেক্ষাপটে তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য তার শিল্পী আত্মবিশ্বাসকে আঘাত করার পাশাপাশি দেশের সঙ্গীত সংস্কৃতির প্রতি অবমাননা হিসেবে বিবেচিত হয়।

ঘটনার পর আইয়ুব বাচ্চু মিডিয়ার সামনে স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন, "আমি গিটারকে শুধুমাত্র যন্ত্র হিসেবে নয়, সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখি। বাংলাদেশের সঙ্গীত ঐতিহ্য সমৃদ্ধ, আর গিটারের মাধ্যমে আমরা বিশ্ব মঞ্চে আমাদের পরিচয় গড়ে তুলছি।" তিনি তৎক্ষণাৎ সেই গিটার দোকানের ব্যবস্থাপনার কাছে লিখিতভাবে অনুরোধ করেন, যাতে কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করা হয়। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তার বক্তব্যের প্রতি ভক্ত ও শিল্প সমালোচকদের সমর্থন জানায়, এবং বহু তরুণ সঙ্গীতশিল্পী মন্তব্যে জানান, এই ধরনের তাচ্ছিল্য তাদের সৃজনশীলতাকে ক্ষুণ্ন করে।

প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সংস্থা ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেয়। তারা গিটার বিক্রেতা ও শপিং মলের কর্মীদের জন্য সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা ও গ্রাহক সেবা প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি, দেশের সঙ্গীত শিল্পের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পৌঁছানোর জন্য নতুন নীতি প্রণয়ন করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের তাচ্ছিল্যমূলক মন্তব্যের সুযোগ না থাকে। আইয়ুব বাচ্চুর এই প্রতিক্রিয়া দেশের সঙ্গীত শিল্পের মর্যাদা রক্ষায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং এটি ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক গর্ব ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

© 2026 Channel A1 TV. All rights reserved.