প্রধানমন্ত্রী শ্রী হাবিবুর রহমানের জাপান সফর আজ (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রস্থান করে টোকিওতে পৌঁছেছেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য হল দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা শক্তিশালী করা, বাণিজ্যিক বিনিময় বৃদ্ধি করা এবং প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করা। সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিন্জো অবা ও পার্লামেন্টের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে সফরের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, যেখানে উভয় দেশই পারস্পরিক আস্থা ও কূটনৈতিক বন্ধনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই সফরকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৭০ দশকে জাপান বাংলাদেশকে প্রথম বিদেশি ঋণদাতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং পরবর্তীতে উন্নয়ন সহায়তা, অবকাঠামো নির্মাণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যাপক সহযোগিতা গড়ে ওঠে। গত দশকে দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেন বার্ষিক ১.৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে, জাপান থেকে রপ্তানি মূলত যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স ও রসায়ন পণ্য, আর বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি মূলত পোশাক, চা ও জৈব পণ্য। পূর্বে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শ্রী হাবিবুর রহমানের জাপান সফরে “স্মার্ট সিটি” প্রকল্প এবং “শিক্ষা বিনিময়” চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা বর্তমান সফরের ভিত্তি স্থাপন করেছে।
সফরের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন উল্লেখ করে বলেন, “এই সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করবে” এবং জাপানের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণা চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা ফোরামের মাধ্যমে উভয় দেশের ব্যবসা সংস্থার প্রতিনিধিদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশা শোনার সুযোগ পেয়েছেন। বাংলাদেশী বাণিজ্যিক গোষ্ঠী ও জাপানি বিনিয়োগকারীরা এই সফরকে নতুন বাজার উন্মোচনের সোনালী সুযোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সফরের শেষ দিনে “ডিজিটাল ট্রেড” চুক্তি, “শক্তি দক্ষতা” প্রকল্প এবং “শিক্ষা বিনিময়” প্রোগ্রাম স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে জাপান থেকে ৫০০ কোটি টাকার সরাসরি বিনিয়োগ এবং ১,০০০ টিরও বেশি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সরকার জাপানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রামীণ বিদ্যুৎ সরবরাহ, স্মার্ট কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেবে। ভবিষ্যতে উভয় দেশ যৌথভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে, এটাই সরকারের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি।