প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Channel A1 Tv Ltd.
Channel A1 TV
Channel A1 TV QR Code
জাতীয়

পরিবার ও কর্মজীবনে সম্পর্ক ভালো রাখতে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার ওপর গুরুত্ব

শায়েখুজ্জামান সম্প্রতি একটি জাতীয় নেতৃত্ব উন্নয়ন সম্মেলনে জোর দিয়ে বলেছেন যে, বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখতে আবে
প্রতিবেদক: CHANNEL A1 TV LTD. প্রকাশ: Oct 16, 2026 প্রিন্ট: 16 Oct 2026, 02:06 AM
পরিবার ও কর্মজীবনে সম্পর্ক ভালো রাখতে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার ওপর গুরুত্ব

শায়েখুজ্জামান সম্প্রতি একটি জাতীয় নেতৃত্ব উন্নয়ন সম্মেলনে জোর দিয়ে বলেছেন যে, বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখতে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা (ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স) অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, নেতৃত্বের মূল কাজ কেবল অনুসারী তৈরি নয়, বরং নতুন নেতা গড়ে তোলা, যা শুধুমাত্র জ্ঞান নয়, অনুভূতি নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা প্রয়োজন। এই বক্তব্যের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব হল, কর্মস্থলে স্ট্রেস, পারিবারিক বিরোধ এবং সামাজিক অস্থিরতা কমিয়ে উৎপাদনশীলতা ও পারিবারিক সুখ বৃদ্ধি করা। তাই, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা এখন কেবল ব্যক্তিগত উন্নয়নের নয়, জাতীয় উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।

আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার ধারণা প্রথমে মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল গলম্যানের গবেষণায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পায়, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্পোরেট প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ঐতিহ্যবাহী পরিবারিক কাঠামো ও সম্মানজনক সম্পর্কের সঙ্গে এই আধুনিক ধারণার সমন্বয় ঘটতে শুরু করেছে। অতীতে কর্মস্থলে কঠোর শৃঙ্খলা ও আদেশ-অনুগমনকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ধরা হতো, তবে আজকের বাজারে সৃজনশীলতা, দলগত কাজ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সমন্বয় প্রয়োজন। এই পরিবর্তনের পটভূমিতে সরকারী ও বেসরকারি সংস্থাগুলি কর্মশালা, সেমিনার এবং প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বিকাশে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সম্মেলনে উপস্থিত বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক এবং পরিবার পরামর্শদাতারা শায়েখুজ্জামানের বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে বলেন, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বাড়লে কর্মচারীর সন্তুষ্টি, কর্মক্ষমতা এবং সংস্থার সুনাম উন্নত হয়। পরিবারে এই দক্ষতা প্রয়োগ করলে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয়, পারিবারিক সংঘাত কমে এবং পারস্পরিক সমঝোতা বৃদ্ধি পায়। কিছু কর্মী ও গৃহিণী ইতিমধ্যে এই ধারণা গ্রহণ করে তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করছেন; তারা জানান, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সহানুভূতির মাধ্যমে কাজের চাপ কমে এবং পারিবারিক পরিবেশে শান্তি বজায় থাকে। সামাজিক মিডিয়ায় এই বিষয়ে আলোচনা বাড়ছে, যেখানে তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে আত্মউন্নয়নের জন্য অনলাইন কোর্সে অংশগ্রহণের প্রবণতা দেখাচ্ছে।

অধিকাংশ সরকারী সংস্থা এবং বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এখন আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়ন করছে। শ্রম মন্ত্রণালয় কর্মস্থলে মানসিক স্বাস্থ্য ও আবেগীয় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যা নিয়োগকর্তাদের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা সংযোজনের পরিকল্পনা করেছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই দক্ষতাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে। ভবিষ্যতে শায়েখুজ্জামান আশা করেন, এই ধরনের প্রশিক্ষণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে জাতীয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে, পরিবারে শান্তি বজায় থাকবে এবং সমাজের সামগ্রিক মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে।

© 2026 Channel A1 TV. All rights reserved.