প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Channel A1 Tv Ltd.
Channel A1 TV
Channel A1 TV QR Code
জাতীয়

ঢাবিতে নিকাব বিতর্ক ও শিক্ষককে বিরতি: শ্রেণিকক্ষটা তাহলে কার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুবের নিকাব ও পর্দা সংক্রান্ত মন্তব্যের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদ দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা জানায
প্রতিবেদক: CHANNEL A1 TV LTD. প্রকাশ: Oct 15, 2026 প্রিন্ট: 15 Oct 2026, 04:27 PM
ঢাবিতে নিকাব বিতর্ক ও শিক্ষককে বিরতি: শ্রেণিকক্ষটা তাহলে কার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুবের নিকাব ও পর্দা সংক্রান্ত মন্তব্যের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদ দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা জানায়, অধ্যাপক মহাশয় নিকাবের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্য করে শ্রেণিকক্ষে অশালীন পরিবেশ তৈরি করেছেন, ফলে শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদসূচক রেলিং ও স্লোগান শুটিংয়ের মাধ্যমে বিরোধ প্রকাশ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে এবং তাসনীম সিরাজকে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের ভিত্তিতে শাস্তি হিসেবে এক মাসের জন্য বিরতি দেয়। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিকাবের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা হয়।

নিখাব সংক্রান্ত বিতর্কের পটভূমি বাংলাদেশে বহু বছর ধরে চলমান। পূর্বে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিকাবের বাধ্যতামূলকতা বা স্বেচ্ছাসেবীতা নিয়ে মতবিরোধ দেখা গিয়েছে, যেখানে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নিকাবের ব্যবহারকে বাধ্যতামূলক করে তোলার চেষ্টা করেছে, আবার অন্যরা শিক্ষার্থীর স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান করার নীতি গ্রহণ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ম্যানুয়ালে নিকাবের ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো বিধি না থাকায় এই ধরনের ঘটনা প্রায়ই উদ্ভূত হয়। তাছাড়া, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক মিডিয়ায় নিকাব সংক্রান্ত বিতর্কের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতি নির্ধারণে আরও সতর্ক করে তুলেছে।

ঘটনার পর তাসনীম সিরাজ মহাবুব একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, তিনি চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের কারণে নিকাব ও পর্দা সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে মন্তব্য করতে পারেননি এবং তার মন্তব্যের উদ্দেশ্য কেবলমাত্র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের অসুবিধা তুলে ধরা ছিল। অন্যদিকে, ছাত্রগোষ্ঠী তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে যে, শিক্ষককে কোনোভাবে ধর্মীয় চিহ্নের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করা উচিত নয় এবং শিক্ষার পরিবেশকে নিরাপদ ও সম্মানজনক রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইউনিয়ন ও ধর্মীয় সংগঠন উভয়ই তাসনীমের মন্তব্যকে অনুপযুক্ত বলে সমালোচনা করে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার জন্য আইনগত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের জন্য গঠন করা কমিটি দ্রুতই তাসনীমের মন্তব্যের প্রকৃত স্বরূপ ও প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে। রিপোর্টে দেখা যায়, শিক্ষক তার মন্তব্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে সংবেদনশীল বিষয় স্পর্শ করেছেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি ও বিরোধ সৃষ্টি করেছে। তাই, বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এক মাসের বিরতি আরোপের পাশাপাশি একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেখানে ধর্মীয় সহনশীলতা ও শিক্ষার স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা হবে। ভবিষ্যতে নিকাব সংক্রান্ত নীতি স্পষ্ট করার জন্য একটি বিশেষ নীতি দল গঠন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীর ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষকের পেশাগত স্বায়ত্তশাসন উভয়ই সুরক্ষিত থাকে।

© 2026 Channel A1 TV. All rights reserved.