প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
দুর্নীতি

গুলশানে বর্জ্য অপসারণের কাজ পেতে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ৩

ঢাকা শহরের গুলশান এলাকায় বর্জ্য অপসারণের কাজের চুক্তি পেতে তিনজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর ৫০ লাখ টাকার চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে গৃহস্থালি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধ
প্রতিবেদক: CHANNEL A1 TV LTD. প্রকাশ: Oct 11, 2026 প্রিন্ট: 12 Oct 2026, 09:34 AM
গুলশানে বর্জ্য অপসারণের কাজ পেতে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ৩

ঢাকা শহরের গুলশান এলাকায় বর্জ্য অপসারণের কাজের চুক্তি পেতে তিনজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর ৫০ লাখ টাকার চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে গৃহস্থালি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গৃহীত জরুরি পদক্ষেপের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের মধ্যে দুইজনই বেসরকারি সেবা প্রদানকারী সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং একজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী, যাঁরা চুক্তি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গোপনীয় চুক্তি গঠন করে চাঁদা দাবি করে চুক্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছিলেন। এই ঘটনার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে গুলশান এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশাল উদ্বেগের সঞ্চার ঘটেছে, কারণ বর্জ্য অপসারণের কাজের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন শহরের পরিবেশগত স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

গুলশানসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যার সমাধানে বহুবার চুক্তি প্রদান করা হয়েছে, তবে অতীতেও চাঁদা ও ঘুষের অভিযোগে বহু প্রকল্পে অগ্রগতি ধীরগতি বা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পূর্বে একই ধরণের দুর্নীতির অভিযোগে কয়েকটি বড় প্রকল্পে দেরি, অতিরিক্ত ব্যয় এবং সেবা মানের হ্রাস দেখা গিয়েছে। এই পটভূমিতে গুলশান বর্জ্য অপসারণের চুক্তি পেতে চাঁদা দাবি করা এক নতুন নয়, বরং দুর্নীতি প্রবণতা অব্যাহত রাখার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য পূর্বে কিছু নীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল, তবে বাস্তবায়নে যথাযথ তদারকি না থাকায় এই ধরনের অনৈতিক আচরণ পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে গৃহীত বিবৃতিতে তারা স্বীকার করেছে যে চাঁদা দাবি করা তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য একমাত্র উপায় বলে তারা মনে করেছিল। গুলশান এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এই ঘটনার উপর কঠোর নিন্দা প্রকাশ করে বলেছেন যে, বর্জ্য অপসারণের কাজের দেরি ও অকার্যকরতা তাদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে এবং পরিবেশগত দূষণ বৃদ্ধি পাবে। গুলশান ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি উল্লেখ করেছেন যে, চুক্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার তদারকি শক্তিশালী করা উচিত। এছাড়া, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিবও জানিয়েছেন যে, চাঁদা দাবি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

এই ঘটনার পরপরই অ্যান্টি-করাপশন কমিশন (এসিএসিএ) গুলশান এলাকায় বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে চুক্তি প্রদান প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ পর্যালোচনা শুরু করেছে। মন্ত্রণালয়ও জরুরি ভিত্তিতে বর্জ্য অপসারণের কাজের জন্য নতুন স্বচ্ছ দরপত্র প্রক্রিয়া চালু করেছে এবং সকল প্রস্তাবের ওপর স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের তদারকি নিশ্চিত করেছে। ভবিষ্যতে একই রকম দুর্নীতি রোধে সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে কঠোর নৈতিক মানদণ্ড প্রণয়ন, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকারী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার এবং জনসাধারণের তদারকি শক্তিশালী করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে গুলশানসহ সমগ্র দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.