মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ব্রিকসের প্রতি তীব্র বিরাগ প্রকাশ পেয়েছে। তিনি ব্রিকসকে ‘অবৈধ গোষ্ঠী’ বলে অভিহিত করে তাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবকে ‘অপরাধমূলক’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই ধরনের তীব্র সমালোচনা যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যেই, তা অনিচ্ছাকৃতভাবে ব্রিকসকে একত্রিত করে তাদের বৈশ্বিক প্রভাব বাড়াতে সহায়তা করেছে। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তি বিনিময়কে শক্তিশালী করছে, এবং ট্রাম্পের বক্তব্য তাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে দৃঢ় করেছে।
ব্রিকস গঠন ২০০৯ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা দেশগুলো দ্বারা শুরু হয়। এই গোষ্ঠীটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সমন্বয় ও রাজনৈতিক সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ব্রিকসকে বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে এসেছে। ট্রাম্পের প্রশাসন ব্রিকসের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ লেবেল দেওয়ার মতো চরম পদক্ষেপ নেয়নি, তবে তার বক্তব্যে ব্রিকসের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
ব্রিকসের নেতারা ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে ‘বৈশ্বিক ন্যায়বিচার’ ও ‘অর্থনৈতিক সমতা’র গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘মার্কিন পক্ষপাত’কে নিন্দা করে ব্রিকসের ‘অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন’কে জোর দিয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ‘বৈশ্বিক শাসন’কে পুনর্বিবেচনা করে ব্রিকসের ‘অর্থনৈতিক সমন্বয়’কে সমর্থন করেছেন। জনসাধারণের মধ্যে এই বক্তব্যে ব্রিকসের প্রতি আস্থা বাড়ছে, এবং সামাজিক মিডিয়ায় ‘ব্রিকস শক্তি’ হ্যাশট্যাগে আলোচনার উত্থান দেখা যাচ্ছে।
মার্কিন সরকার এখন ব্রিকসের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে, তবে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে তা স্থগিত রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো এই পরিস্থিতিতে ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শাসন’কে পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে নতুন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্য চুক্তি অন্তর্ভুক্ত। ভবিষ্যতে ব্রিকসের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের কূটনৈতিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে।