নারায়ণগঞ্জ‑ঢাকা‑জয়দেবপুর রেললাইনকে বিদ্যুৎ চালিত রেলগাড়িতে রূপান্তরিত করার ৩৮২২ কোটি টাকার বিশাল প্রকল্প আজ সরকারী অনুমোদন পেয়ে একনেকে উঠেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের শেষের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামো সম্পন্ন করে ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে সম্পূর্ণ রেললাইন চালু করা হবে। এই রূপান্তর রেলপথের গতি, নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত প্রভাবের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনবে, পাশাপাশি দেশের কার্বন নির্গমন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই প্রকল্পের পটভূমি হল গত দশকে দেশের রেলবাহিনীর ডি‑সেল ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়ে পরিবেশ দূষণ এবং জ্বালানি ব্যয়ের বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। ২০১৯ সালে রেলবাহিনীর বিদ্যুৎ রেল প্রকল্পের প্রাথমিক feasibility study সম্পন্ন হয়, যেখানে নারায়ণগঞ্জ‑ঢাকা‑জয়দেবপুর রুটকে দেশের সর্বাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী রেললাইন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তদুপরি, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা এবং জাপানের ODA তহবিলের সমর্থনে এই প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের কৌশলগত অগ্রাধিকারে রেল ইলেকট্রিফিকেশনকে স্থাপন করেছে।
প্রকল্পের ঘোষণার পরপরই পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও রেলবাহিনীর প্রধানের মন্তব্যে রেলগাড়ির গতি ১২০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে, যাত্রীর আরাম ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীদেরও এই উদ্যোগে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করা হয়েছে; তারা বিদ্যুৎ রেলগাড়ির কম ভাড়া ও দ্রুত গমন‑গমনের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তবে কিছু পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মী বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রভাবের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন, যা প্রকল্পের পরিবেশগত মূল্যায়ন পর্যায়ে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে।
কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ, লাইনিং কাজ এবং ট্র্যাকের আধুনিকীকরণ পরিকল্পনা চালু করেছে। রেলবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ ও আন্তর্জাতিক কনসালট্যান্ট সংস্থার সমন্বয়ে ত্রৈমাসিক অগ্রগতির রিপোর্ট তৈরি হবে, যাতে সময়সূচি ও বাজেটের সঠিক অনুসরণ নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া, বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নতুন সাবস্টেশন ও ট্রান্সফরমার স্থাপন, সিগন্যালিং সিস্টেমের আপগ্রেড এবং রেলগাড়ির ক্রয় পরিকল্পনা সমান্তরালভাবে চালু থাকবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন দেশের রেল অবকাঠামোর আধুনিকীকরণে মাইলফলক হবে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য রুটে বিদ্যুৎ রেলগাড়ি চালু করার জন্য মডেল হিসেবে কাজ করবে।