খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে সামরিক বাহিনীর উদ্যোগে বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। আইএসপিআরের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এই কার্যক্রমের আওতায় মোট ৮৬১ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা, ঔষধ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। রোগীর সংখ্যা ও সেবার পরিসর বিবেচনা করলে, এই উদ্যোগটি স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং রোগীর তাত্ক্ষণিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
খাগড়াছড়ি অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর ঘাটতি, বিশেষ করে গ্রামীণ ও পাহাড়ি এলাকায় চিকিৎসা সুবিধার অভাব ছিল প্রধান সমস্যা। পূর্বে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো সীমিত থাকায় রোগীরা দূরবর্তী শহরে যাত্রা করে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হতেন। সামরিক বাহিনীর স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা, যেমন চট্টগ্রাম ও সিলেটের সামরিক হাসপাতালগুলিতে বিনামূল্যে সেবা প্রদান, এই উদ্যোগের পটভূমি গঠন করেছে। ফলে, সেনাবাহিনীর স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটের সঙ্গে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সমন্বয় করে এই কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রকল্পের সূচনায় হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবদুল হক জানান, “সেনাবাহিনীর সহায়তায় রোগীর সংখ্যা ও সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; এটি আমাদের স্বাস্থ্যসেবা মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।” সেনাবাহিনীর মেডিকেল কর্পসের প্রধান কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন রশিদ আহমেদও উল্লেখ করেন, “সামরিক ও নাগরিক সেবার সমন্বয় দেশের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরিহার্য।” রোগীরা সেবার গুণগত মান ও দ্রুত সাড়া পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন; স্থানীয় নেতা ও সমাজকর্মীও এই উদ্যোগকে “জনস্বাস্থ্যের প্রতি সরকারের দায়িত্বশীলতা” বলে প্রশংসা করেছেন।
অধিকর্তারা এই উদ্যোগকে স্থায়ী করে তোলার জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সংখ্যক রোগীকে বিনামূল্যে সেবা প্রদান করা হবে। তদুপরি, ভবিষ্যতে এই মডেলটি অন্যান্য চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টের জেলা হাসপাতালে সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন কমিটি গঠন করে সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করা, রোগীর প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করা এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ বরাদ্দ করা হবে। এভাবে, সেনাবাহিনীর স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগটি দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য নীতি ও জনসেবা উন্নয়নে একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে।