গত সপ্তাহে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি‑বাংলাদেশ (এআইইউবি) ও ব্রেন স্টেশন ২৩ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (কেবি) গবেষণার ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একত্রিত হয়ে এই চুক্তির তাৎক্ষণিক গুরুত্ব ও দেশের প্রযুক্তি উন্নয়নে এর সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরেছেন। স্মারক অনুসারে, এআইইউবি‑এর শিক্ষার্থীরা ব্রেন স্টেশন ২৩‑এর প্রকল্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে গত দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে, তবে শিল্প‑শিক্ষা সংযোগের অভাব এখনও চ্যালেঞ্জ রূপে রয়ে আছে। এআইইউবি দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গবেষণা‑ভিত্তিক শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সক্রিয়, আর ব্রেন স্টেশন ২৩ সফটওয়্যার উন্নয়ন ও ডেটা বিশ্লেষণে দেশের অগ্রণী প্রতিষ্ঠান। পূর্বে উভয় সংস্থা একাধিক কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে; আজকের সমঝোতা স্মারক সেই সম্পর্ককে গবেষণা‑প্রকল্পের স্তরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখে।
সমঝোতা স্মারকের স্বাক্ষরের পর এআইইউবি‑এর উপাচার্য ড. রুবেল হোসেন বলেন, “এই সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব শিল্পের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” ব্রেন স্টেশন ২৩‑এর সিইও শামীম আহমেদ যোগ করেন, “আমরা দেশের সেরা মেধা সঙ্গে কাজ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রের উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করতে চাই।” শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সুযোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে; তারা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে উচ্ছ্বসিত। এছাড়া, শিল্প ও একাডেমিক জগতের এই সমন্বয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়নের জন্য উভয় পক্ষ একটি যৌথ গবেষণা কেন্দ্র গঠন করবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রকল্প‑ভিত্তিক কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পাবে। প্রথম পর্যায়ে দশটি গবেষণা প্রকল্প চালু করা হবে, যার জন্য সরকারী ও বেসরকারি তহবিলের সমন্বয় করা হবে। এছাড়া, নিয়মিত কর্মশালা, সেমিনার ও প্রযুক্তি‑প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে জ্ঞান‑বিনিময় নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে এই মডেলটি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিস্তৃত করা হবে, যাতে দেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইকোসিস্টেমের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।