ব্র্যাকের মেধাবিকাশ বৃত্তি পরিকল্পনা আজ সরকারী ও বেসরকারি শিক্ষা ক্ষেত্রের নজরে এসেছে। এই বৃত্তি প্রোগ্রামটি কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গৃহীত, যেখানে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এককালীন ৮,০০০ টাকা এবং মাসিক ৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবে। বৃত্তির আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২০ অক্টোবর ২০২৬, যা আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য সীমিত সময়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই পদক্ষেপটি শিক্ষার খরচের ভার কমাতে এবং মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাতে লক্ষ্য রাখে।
ব্র্যাক সংস্থা দেশের শিক্ষা উন্নয়নে বহু দশক ধরে বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছে। মেধাবিকাশ বৃত্তি তার মধ্যে অন্যতম, যা ২০১৫ সাল থেকে উচ্চশিক্ষা প্রবেশের বাধা দূর করতে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। পূর্বে বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে অগ্রসর হয়ে গবেষণা ও পেশাগত ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। এই বৃত্তি পরিকল্পনা বিশেষত গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে, যাতে আর্থিক সীমাবদ্ধতা তাদের শিক্ষার পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।
ব্র্যাকের মেধাবিকাশ বৃত্তি প্রকল্পের সমন্বয়কারী ড. রেহানা সুলতানা বলেন, “এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমিয়ে তাদের একাডেমিক মনোযোগ বৃদ্ধি করবে।” নির্বাচিত প্রথম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী, রাহিম উদ্দিন, তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, “এককালীন অর্থ আমাকে পরীক্ষার ফি ও পাঠ্যপুস্তক কেনার সুযোগ দিয়েছে, আর মাসিক বৃত্তি আমার দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে।” শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকগণও বৃত্তি পরিকল্পনাকে প্রশংসা করে উল্লেখ করেন, এটি সামাজিক সমতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। ফলে, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়ে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা দৃঢ় হয়।
ব্র্যাকের মেধাবিকাশ বৃত্তি পরিচালনা কমিটি এখনো আবেদনপত্রের যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে এবং নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা ৩১ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ব্যাংক ট্রান্সফার মাধ্যমে সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্টে করা হবে, যাতে আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা বজায় থাকে। ভবিষ্যতে এই বৃত্তি পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত করে দেশের সব প্রান্তে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে, এবং বৃত্তির পরিমাণ ও শর্তাবলী সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন করা হবে। সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে এই ধরনের আর্থিক সহায়তা শিক্ষার গুণগত মান ও প্রবেশযোগ্যতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।