মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষের মতে, নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে এই সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার কারাগারে আটক মার্কিন নাগরিকদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় নতুন অভিযোগ আনা হতে পারে। সিবিএসের প্রতিবেদন অনুসারে, মাদুরো শাসনব্যবস্থার অধীনে ভেনেজুয়েলার কারাগারগুলোতে মার্কিন বন্দীদের শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। এই অভিযোগগুলোতে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর সরাসরি অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা মার্কিন বিচার বিভাগের তদন্তের আওতায় এসেছে। যদি অভিযোগগুলো সফল হয়, তবে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মার্কিন আদালতে অভিযুক্ত করা হবে এবং সম্ভাব্য কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে।
পূর্বে ২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সরকারকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য অভিযোগ করেছে, বিশেষত কারাগারগুলিতে বন্দীদের প্রতি নির্যাতনের বিষয়ে। মাদুরো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধীদের ও বিদেশি নাগরিকদের প্রতি কঠোর নীতি অবলম্বন করেছে। ভেনেজুয়েলার কারাগারগুলোতে বন্দীদের শারীরিক অত্যাচার, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা না দেওয়া এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ বহুবার উঠে এসেছে। এই নতুন অভিযোগগুলো মাদুরো শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনার ধারাকে আরও তীব্র করবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও বিচার বিভাগ উভয়ই এই অভিযোগগুলোকে “গভীর উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করেছে এবং মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মাদুরোর মুখপাত্রও এই অভিযোগগুলোকে “অভিনন্দনযোগ্য” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ভেনেজুয়েলার মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই অভিযোগগুলোকে ভেনেজুয়েলার মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রতি আন্তর্জাতিক নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন। জনগণের মধ্যে এই ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ ও প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে, বিশেষত ভেনেজুয়েলার অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে।
মার্কিন বিচার বিভাগ বর্তমানে প্রমাণ সংগ্রহ ও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। যদি অভিযোগগুলো সফল হয়, তবে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মার্কিন আদালতে অভিযুক্ত করা হবে এবং সম্ভাব্য কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। ভেনেজুয়েলার সরকারও এই অভিযোগগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। ভবিষ্যতে এই মামলাটি আন্তর্জাতিক আদালতে শোনা হতে পারে এবং ভেনেজুয়েলার মানবাধিকার পরিস্থিতি ও মার্কিন-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।