একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য গঠিত ৪৮ হাজার কমিটি কাগজে বিদ্যমান থাকলেও অধিকাংশই কার্যকরী নয়, এমন একটি চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। সমীক্ষা অনুসারে, ইউনিয়ন স্তর থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত কমিটি গঠনের নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও, বাস্তবে কমিটির সভা, কর্মসূচি ও তহবিলের ব্যবহার প্রমাণ করার কোনো রেকর্ড পাওয়া যায় না। মশা সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়ে, বিশেষ করে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে এই তথ্যের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মশা নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠনের নীতি ২০০৯ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত নীতি নির্দেশিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়, যার লক্ষ্য ছিল ইউনিয়ন স্তরে সক্রিয়ভাবে মশা দমনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করা। তদুপরি, ২০১২ সালে জাতীয় মশা দমন কর্মসূচি চালু করা হয়, যেখানে প্রতিটি ইউনিয়নে কমিটি গঠন, প্রশিক্ষণ ও তহবিল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে, তহবিলের অপ্রতুলতা, পর্যবেক্ষণের অভাব এবং স্থানীয় প্রশাসনের অগ্রাধিকার পরিবর্তনের ফলে বহু কমিটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়ে গিয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখ্য সচিবের মতে, “কমিটি গঠন নীতি সঠিক পথে থাকা সত্ত্বেও, বাস্তবায়নে ত্রুটি রয়েছে; তদুপরি, স্থানীয় কর্মকর্তাদের দায়িত্ববোধের ঘাটতি এই সমস্যার মূল কারণ” উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা জানান, তহবিলের অপ্রতুলতা এবং প্রশিক্ষণের অভাবের ফলে কমিটি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে, এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবক গোষ্ঠী মশা দমনের জন্য স্বতন্ত্র উদ্যোগ গ্রহণের কথা উল্লেখ করে, সরকারের সহায়তা ও সমন্বয় চেয়েছেন। সাধারণ জনগণও মশা কামড়ের বৃদ্ধি এবং রোগের ঝুঁকির কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, এবং কমিটির কার্যকরী উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তৎক্ষণাৎ একটি সমন্বিত অডিট প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে, যার মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় কমিটির তালিকা চিহ্নিত করে পুনর্গঠন করা হবে। তদুপরি, তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল রেকর্ড সিস্টেম চালু করা এবং প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে কমিটি সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে, মশা দমন কার্যক্রমকে একীভূত করে জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত ডাটাবেস গঠন করা হবে, যাতে প্রতিটি কমিটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা যায়। এই পদক্ষেপগুলো মশা সংক্রমণজনিত রোগের হার কমাতে এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।