আজ ঢাকা শহরের একটি প্রখ্যাত উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক আজমীরা খানম শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিশেষভাবে সাবিকুন নাহার অহনাকে উল্লেখ করে বললেন, “অহনা আমার হৃদয়ের গহিনে এক বিশেষ স্থান দখল করেছে; তার সৃজনশীলতা, নিষ্ঠা এবং সহপাঠীদের প্রতি সহানুভূতি আমাকে অনুপ্রাণিত করে।” এই স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র অতীতের স্মৃতি পুনর্জীবিত করার জন্য নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার স্রোত হিসেবে কাজ করবে। উপস্থিত শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষাবিদরা এই মুহূর্তকে গভীরভাবে অনুভব করেছেন।
আজমীরা খানমের শিক্ষাজীবন তিন দশকেরও বেশি সময়ের, যার মধ্যে তিনি শতাধিক শিক্ষার্থীর মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার শিক্ষাদানের পদ্ধতি সর্বদা মানবিক মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে, যেখানে শিক্ষার্থীর স্বতন্ত্র গুণাবলীকে চিহ্নিত করে তা বিকাশের সুযোগ প্রদান করা হয়। অহনা, যিনি মাধ্যমিক পর্যায়ে তার শিক্ষক ছিলেন, তখন থেকেই বিজ্ঞান ও মানবিক বিষয়ের সমন্বয়ে উৎকর্ষতা প্রদর্শন করে বহু পুরস্কার জিতেছেন। তার শিক্ষার প্রতি নিবেদন এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ তাকে সহপাঠীদের মধ্যে আলাদা করে তুলেছে, যা আজমীরার স্মৃতিতে অম্লান ছাপ রেখে গেছে।
অনুষ্ঠানে আজমীরা খানমের মন্তব্যের পর অহনা নিজে মঞ্চে এসে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, “শিক্ষকের দিকনির্দেশনা ছাড়া আমি আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারতাম না; তার বিশ্বাসই আমাকে স্বপ্নের পেছনে ছুটতে উদ্বুদ্ধ করেছে।” অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানান, কীভাবে শিক্ষক তাদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলেছেন এবং কঠিন সময়ে মানসিক সমর্থন প্রদান করেছেন। অভিভাবকগণও এই ধরনের মানবিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বন্ধনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। স্থানীয় সমাজের মানুষও এই উদাহরণকে প্রশংসা করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এধরনের মেন্টরশিপের প্রয়োজনীয়তা জোর দেন।
বিদ্যালয়ের প্রশাসন এই স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানকে শিক্ষার মানদণ্ড উন্নয়নের একটি মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে, নিয়মিতভাবে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তারা আগামী বছর একটি বৃহৎ অ্যালামনি মিটিং আয়োজনের পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য পরামর্শদাতা সেবা চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া, শিক্ষকদের পেশাদার প্রশিক্ষণ ও মানবিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নতুন কর্মশালা চালু করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীর গহিনে সঞ্চিত আবেগ ও সম্ভাবনা সঠিকভাবে লালন করা যায়। এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে শিক্ষার গুণগত মানকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।