ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সাব‑রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে পদায়নের জন্য দেশের ‘এ ক্যাটাগরি’এর ১৩১ যোগ্য প্রার্থীর মধ্যে লটারির মাধ্যমে ১৮ জনকে বাছাই করা হয়েছে। লটারি প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করে সম্পন্ন করা হয় এবং ফলাফল সরাসরি সরকারি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এই পদক্ষেপটি সরকারি কর্মী নিয়োগে অব্যাহত দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি দৃঢ় প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং জনসাধারণের মধ্যে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসের পুনঃনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সাব‑রেজিস্ট্রি পদে পূর্বে বহুবার অযোগ্যতা, জালিয়াতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠে আসা সত্ত্বেও, ২০২৩ সালে সংশ্লিষ্ট আইনসভার মাধ্যমে ‘এ ক্যাটাগরি’এর জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড ও যোগ্যতা নির্ধারিত হয়। এই মানদণ্ডে শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত প্রশিক্ষণ, ন্যূনতম কর্ম অভিজ্ঞতা এবং নৈতিকতার মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত। লটারি পদ্ধতি গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রার্থীদের মধ্যে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মানবিক বিচ্যুতি দূর করা। অতএব, এই পদ্ধতি পূর্বের সরাসরি নির্বাচন পদ্ধতির তুলনায় অধিক স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রদান করে।

মন্ত্রিপরিষদ আইন, ন্যায় ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন যে, লটারি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও আইনি ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে এবং নির্বাচিত প্রার্থীরা সকল প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে। নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পূর্বে জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত ছিলেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বে কাজে লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রার্থীদের সমিতি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে, এটি সরকারি সেবার গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যতে আরও এমন স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।

প্রতিষ্ঠানিকভাবে, নির্বাচিত ১৮ সাব‑রেজিস্টারকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে ডিজিটাল রেজিস্ট্রি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সেবা ও আইনি নথিপত্রের সঠিক হ্যান্ডলিং ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রশিক্ষণ শেষে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তাদের পদবিন্যাস সম্পন্ন হবে এবং তদারকি কমিটি নিয়মিতভাবে কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করবে। সরকার এছাড়াও ভবিষ্যতে লটারি পদ্ধতি সম্প্রসারিত করে অন্যান্য সরকারি পদে প্রয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।