পূজার ছুটির আগের শনিবার, সরকারী ও বেসরকারি বেশিরভাগ অফিসের দরজা পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে, যা কর্মচারী ও ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল ছুটির পূর্বে কাজের গতি বজায় রাখা এবং জরুরি সেবা প্রদান নিশ্চিত করা, যাতে ছুটির দিনগুলোতে কোনো ধরণের সেবা ব্যাঘাত না ঘটে। বিশেষত, কর, শুল্ক, পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবা কেন্দ্রগুলোতে এই দিনটি খোলা থাকবে, ফলে নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় কাজের সমাপ্তি সহজ হবে।

অফিসের পুনরায় খোলার পেছনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার ভিত্তি রয়েছে। গত বছর একই সময়ে ছুটির পূর্বে অফিস বন্ধ রাখা হলে, কর সংগ্রহে হ্রাস, পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং জরুরি সেবার অপ্রতুলতা দেখা গিয়েছিল। এসব সমস্যার পর্যালোচনা করে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো একত্রে সমন্বয় করে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে, যা এই বছর শনিবার অফিস খোলার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। এছাড়া, কর্মীশক্তি বাড়ানোর জন্য অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ এবং শিফট ভিত্তিক কাজের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে সেবা মান বজায় থাকে।

অফিস খোলার বিষয়ে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের মতামত প্রকাশ পেয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, এই পদক্ষেপটি নাগরিকের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সরকারি সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীও ইতিবাচকভাবে সাড়া দিয়েছে, কারণ তারা ছুটির আগে বাণিজ্যিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবে। তবে, শ্রমিক ইউনিয়নের কিছু সদস্য কর্মচারীদের অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং অতিরিক্ত কাজের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও বিশ্রামের ব্যবস্থা দাবি করেছেন। সাধারণ জনগণও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে, বিশেষ করে যারা ছুটির আগে জরুরি কাজ সম্পন্ন করতে চায়।

কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অফিস খোলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন, শিফট সিস্টেমের পুনর্গঠন এবং জরুরি সেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতে, সরকার এই ধরনের পদক্ষেপকে নিয়মিত করার পরিকল্পনা করছে, যাতে ছুটির সময়ে সেবা ব্যাঘাত কমে এবং নাগরিকের সুবিধা সর্বোচ্চ হয়। এছাড়া, কর্মচারীদের স্বাস্থ্যের দিক থেকে যথাযথ বিশ্রাম ও কাজের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নীতি নির্ধারণের কাজও চলমান রয়েছে।