পর্যটন শিল্পের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মানবসম্পদ গঠনের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে নতুন স্নাতক, শর্ট কোর্স ও ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম চালু করেছে, যা পর্যটন ব্যবস্থাপনা, হসপিটালিটি, ইকো‑ট্যুরিজম ও ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বিভিন্ন দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল শিল্পের চাহিদা মেটাতে দক্ষ কর্মী সরবরাহ করা এবং দেশের পর্যটন আয় বৃদ্ধি করা। প্রথম ব্যাচের ভর্তি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি, যা এই ক্ষেত্রের প্রতি জনসাধারণের উচ্চ প্রত্যাশা নির্দেশ করে।
গত দশকে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে; আন্তর্জাতিক পর্যটক সংখ্যা এবং দেশীয় ভ্রমণকারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, পূর্বে পর্যটন সংক্রান্ত পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সীমিত থাকায় শিল্পে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি ছিল। এই ঘাটতি পূরণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পর্যটন অধিদপ্তর একত্রে কাজ করে নতুন পাঠ্যক্রম তৈরি করেছে, যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া, স্থানীয় সংস্কৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ জোর দিয়ে কোর্সগুলো ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে পর্যটন উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ একসঙ্গে এগিয়ে যায়।
পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মতে, এই শিক্ষাপ্রোগ্রামগুলো দেশের পর্যটন নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরাসরি অবদান রাখবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের প্রধানরা যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিল্পের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন, প্রশিক্ষিত কর্মী সরবরাহের মাধ্যমে হোটেল, ভ্রমণ সংস্থা ও গাইড সার্ভিসের মানোন্নয়ন সম্ভব হবে। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীরা বাস্তব প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিক কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করবে, যা তাদের কর্মজীবনে দ্রুত অগ্রগতি নিশ্চিত করবে।
প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তা পরিকল্পনা চালু করেছে, যাতে আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা শিক্ষার্থীরাও এই কোর্সে অংশ নিতে পারে। সরকার ভবিষ্যতে পর্যটন শিক্ষা কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করেছে এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালু করবে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের পর্যটন শিল্পকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে, পাশাপাশি যুবকদের জন্য নতুন ক্যারিয়ার পথ উন্মুক্ত করবে।