সরকারি প্রকল্পের অধীনে বরাদ্দকৃত গাড়িগুলি সাম্প্রতিক সময়ে নাগরিকদের করের অর্থের অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন মিডিয়া সংস্থা ও সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠীর রিপোর্টে দেখা যায়, বহু সরকারি কর্মচারী ও রাজনৈতিক নেতারা গাড়িবিলাসকে যোগসাজশের হাতিয়ার করে, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ, অতিরিক্ত ভাড়া এবং অননুমোদিত ব্যবহার করে করদাতাদের ক্ষতি করছেন। এই ধরনের অনিয়ম কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং সরকারি সম্পদের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুন্ন করে দেশের উন্নয়নমূলক লক্ষ্যকে ব্যাহত করে। এ ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের ফলে জনসাধারণের সরকারের প্রতি আস্থা হ্রাস পেয়েছে এবং ন্যায়সঙ্গত সম্পদ বণ্টনের নীতি ব্যাহত হয়েছে। বিশেষত, গাড়িবিলাসের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার পরিবহন বাজেটের অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করেছে, যা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে।

গাড়িবিলাসের সমস্যার শিকড় ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে গৃহীত 'সরকারি গাড়ি বরাদ্দ নীতি' তে রয়েছে, যেখানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ গাড়ি সুবিধা প্রদান করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নীতি দুর্বল তদারকি ও স্বচ্ছতার অভাবে বিকৃত হয়ে গিয়েছে। ২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় অডিট অফিস (NAO) গাড়িবিলাসের অপব্যবহার সম্পর্কিত একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে মোট বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশ গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণে ব্যয় হয়েছে। তদুপরি, ২০১২ এবং ২০১৮ সালে একই ধরনের অভিযোগে বহু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের আদেশ জারি করা হলেও, কার্যকর পদক্ষেপের অভাবের কারণে সমস্যাটি তীব্রতর হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে গাড়িবিলাসের অপব্যবহারকে 'অবৈধ ও অনৈতিক' বলে চিহ্নিত করে, সংশ্লিষ্ট সকলকে তৎক্ষণাৎ সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিরোধী দলগুলিও এই বিষয়টি ব্যবহার করে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবকে সমালোচনা করেছে। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে; সামাজিক মাধ্যমে গাড়িবিলাসের দমন ও করের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি বাড়ছে। ব্যবসা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, যদি সরকার গাড়িবিলাসের নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নীতি না গৃহীত করে, তবে বিনিয়োগের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হবে।

সরকারি গাড়িবিলাস বন্ধের লক্ষ্যে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার দায়িত্ব গাড়ি বরাদ্দ প্রক্রিয়া পুনর্গঠন, ব্যবহারিক নিয়মাবলী কঠোর করা এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম প্রয়োগ করা। এছাড়া, অপ্রয়োজনীয় গাড়ি বিক্রয় বা দান করে বাজেটের স্বচ্ছতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে গাড়িবিলাসের ব্যবহার শুধুমাত্র জরুরি সরকারি কাজের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে এবং সকল ব্যবহার রিয়েল-টাইমে মনিটর করা হবে। এই পদক্ষেপগুলি সফল হলে করদাতাদের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে, আর দেশের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে আর্থিক সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।