নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। ঘোষণায় বলা হয়েছে যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সদস্য দেশগুলোকে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এই সিদ্ধান্তটি বিশ্বব্যাপী শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পুনরায় নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশও এই ঘোষণায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় নিজস্ব অবদান রাখার সংকল্প প্রকাশ করেছে।

ব্রিকস গোষ্ঠীটি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সদস্য দেশগুলো হলো ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। পূর্ববর্তী সম্মেলনগুলোতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ওঠা-নামা, শরণার্থী সংকট ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিকস সদস্যরা একত্রে সমাধান খোঁজার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ গৃহীত করেছে।

সম্মেলনের সময় ব্রিকসের প্রধান নেতারা একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও চীনের রাষ্ট্রপতি উভয়েই শান্তি প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বাংলাদেশে জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একত্রে ঘোষণা করে যে, তারা ব্রিকসের সাথে সমন্বয় রেখে মানবিক সহায়তা ও শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ করবে। জনগণের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, বিশেষ করে শরণার্থী ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে।

বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ অনুযায়ী কূটনৈতিক চ্যানেল খুলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্রিকসের সাথে সমন্বয় করে শরণার্থী পুনর্বাসন ও মানবিক সাহায্যের পরিকল্পনা তৈরি করছে। ভবিষ্যতে এই ঘোষণার আলোকে দেশগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানানো হবে।