বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজনকৃত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার গত সপ্তাহে রাজধানীর গুলশান এক্সিবিশন সেন্টারে উদ্বোধন করা হয়। মেলায় প্রথমবারের মতো সৌরবিদ্যুতে চালিত যাত্রীবাহী গাড়ি ‘সান কার’ এবং স্বয়ংক্রিয় সেচ পাম্প প্রদর্শিত হওয়ায় দর্শনার্থীদের মধ্যে তীব্র আগ্রহ দেখা যায়। উভয় উদ্ভাবনই দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি ও কৃষি সেচ সমস্যার সমাধানে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, ফলে মিডিয়া ও সাধারণ জনগণের মনোযোগ একত্রিত হয়েছে।
সৌরশক্তি ব্যবহার করে পরিবহন ও কৃষি ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকারগত নীতি গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী করা হয়েছে। পূর্বে গৃহীত ‘সৌর শক্তি উন্নয়ন পরিকল্পনা’ অনুযায়ী বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও স্টার্ট‑আপকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এই ফেয়ারটি সেই নীতির ফলাফলকে জনসমক্ষে উপস্থাপন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ, যেখানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমর্থনও পাওয়া যায়।
মন্ত্রীর সহকারী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অধিনায়ক ড. রেহানা বেগমের মতে, সান কারের গড় গতি ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা এবং একবারের চার্জে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম, যা নগর পরিবহনে জ্বালানি ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও উল্লেখ করেন, নতুন সেচ পাম্পটি ১০০ ওয়াটের কম শক্তি ব্যবহার করে ১ হেক্টর জমিতে ৪,০০০ লিটার পানি সরবরাহ করতে পারে, ফলে ছোট কৃষকদের জন্য সাশ্রয়ী সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা জানান, বাজারে প্রবেশের বাধা কমাতে সরকারী নীতি ও আর্থিক সহায়তা প্রত্যাশা করছেন।
ফেয়ার সমাপ্তির পর মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণে ত্বরান্বিত করার জন্য একটি বিশেষ কর্মদল গঠন করেছে। কর্মদলটি উৎপাদন খরচ কমাতে স্থানীয় উপাদান ব্যবহার, রপ্তানি সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করার দায়িত্বে থাকবে। এছাড়া, আগামী দুই বছরে দেশব্যাপী ১,০০০টি সান কার এবং ৫,০০০টি সেচ পাম্প স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে, যা গ্রামীণ বিদ্যুৎ ঘাটতি ও কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।