রূপলাল হাউস, যা একসময় রাজকীয় ঐতিহ্যের প্রতীক ছিল, আজ মসলা ও সবজি ব্যবসায়ীদের গুদামঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে পণ্যের স্তূপ জমে আছে, কিছু স্থানে দখলের চিহ্ন দেখা যায়। চারপাশের বাজারের কোলাহল, মসলার গন্ধ, শ্রমিকদের ব্যস্ততা আর ক্রেতা‑বিক্রেতার হাঁকডাক একত্রে এই স্থাপনার ঐতিহাসিক পরিচয়কে চাপা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি শহরবাসীর মধ্যে উদ্বেগের সঞ্চার করেছে, কারণ রূপলাল হাউসের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক মূল্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

এই ভবনটি ১৮০০ সালের শেষ দিকে নির্মিত হয়েছিল এবং একসময় এটি রূপলাল জোনের জমিদারের বাসস্থান ছিল। সময়ের সাথে সাথে এটি পরিত্যক্ত হয়ে যায় এবং অবশেষে স্থানীয় মসলা ও সবজি ব্যবসায়ীরা গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। রূপলাল হাউসের স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য যেমন বড় বড় জানালা, সজ্জিত কলাম ও ঐতিহ্যবাহী ছাদ এখন ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। এই পরিবর্তন শহরের ঐতিহাসিক স্মৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবসায়ীরা বলেন, রূপলাল হাউসের অবস্থান বাজারের কেন্দ্রে হওয়ায় তাদের পণ্যের বিক্রয় সহজ হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে ভবনের ঐতিহাসিক পরিচয় হারিয়ে যাচ্ছে। একটি স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ সমিতির সভাপতি বলেন, “আমরা চাই ভবনটি পুনরুদ্ধার করে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হোক।” আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “এই গুদামঘর হিসেবে ব্যবহারে ভবনের সৌন্দর্য ও ইতিহাস ম্লান হয়ে যাচ্ছে।”

শহর কর্পোরেশন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিভাগ ইতিমধ্যে রূপলাল হাউসের অবস্থা পর্যালোচনা করে একটি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পরিকল্পনায় ভবনের মূল কাঠামো সংরক্ষণ, মসলা ও সবজি গুদামঘরকে আলাদা করে রাখা এবং অবশিষ্ট অংশকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করার কথা উল্লেখ আছে। এছাড়াও, ভবনের চারপাশে পর্যটন পথ তৈরি করে স্থানীয় অর্থনীতিকে উত্সাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।