সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ঢাকার শহরজুড়ে ১৪.২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা শহরের জলবাহী ব্যবস্থায় চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিমাণ বৃষ্টি স্বাভাবিক দিনের তুলনায় বেশি এবং রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। ট্রাফিক চলাচলে বাধা পড়ে অনেক যানবাহনকে পথ পরিবর্তন করতে হয়েছে। শহরের বিভিন্ন অংশে ছোট ছোট পুকুর গঠিত হয়েছে, যা বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তি তৈরি করেছে। এই ঘটনাটি শহরের জলবাহী অবকাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে বৃষ্টির সময় শহরের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

ঢাকার আবহাওয়া বিভাগ অনুযায়ী, এই বৃষ্টির পরিমাণ সাম্প্রতিক কয়েক দিনের তুলনায় বেশি। গত সপ্তাহে শহরে ৮ মিলিমিটার থেকে ১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু এই সকালে ১৪ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, এই বৃষ্টির পরিমাণ মেঘের ঘনত্ব ও আর্দ্রতার কারণে হয়েছে। তদুপরি, পূর্বে মেঘের গঠন দ্রুত গঠিত হওয়ার ফলে বৃষ্টির তীব্রতা বেড়েছে। আবহাওয়া বিভাগ দুপুরের দিকে আবার বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে, যা শহরের জলবাহী ব্যবস্থায় আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ওমর ফারুক বলেন, “এই বৃষ্টির পরিমাণ শহরের জন্য চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।” তিনি আরও জানান, “দুপুরের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সড়ক ও সেতুতে অতিরিক্ত নজরদারি প্রয়োজন।” শহরের বাসিন্দারা এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অনেক বাসিন্দা জানান, “রাস্তায় জল জমে গাড়ি চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।” ট্রাফিক পুলিশও জানান, “আমরা অতিরিক্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছি যাতে যানজট কমানো যায়।”

শহর প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। জলবাহী বিভাগ রাস্তায় জলাবদ্ধতা দূর করতে পাম্প চালু করেছে এবং সড়ক মেরামতের কাজ শুরু করেছে। ট্রাফিক বিভাগ সড়ক পরিষ্কার ও সাইনবোর্ড স্থাপন করে চলাচল সহজ করার চেষ্টা করছে। এছাড়া, শহর পরিষদ আগামী সপ্তাহে জলবাহী অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচি শুরু করবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বৃষ্টির সময় শহরের প্রস্তুতি বাড়ানো হবে এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।