টাঙ্গাইলের সখীপুরে বসবাসরত মোসলেম উদ্দিন, যিনি একসময় রাখাল ছিলেন, পরে বাদাম বিক্রেতা হয়ে ওঠেন, এখন বরই চাষে মনোনিবেশ করে এই মৌসুমে এক কোটি টাকার বিক্রির আশা করছেন। তার বাগানে ২ হেক্টর জমিতে ১২০০টি বরই গাছ রোপণ করা হয়েছে, যা গ্রীষ্মের শেষে ফল দিতে প্রস্তুত। এই বরই গাছগুলোকে তিনি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সঠিক সার ব্যবস্থার মাধ্যমে যত্ন নিয়েছেন। ফলের গুণগত মানের কারণে বাজারে উচ্চ মূল্য পেতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।
মোসলেম উদ্দিনের পরিবার ছোটখাটো জমিতে বসবাস করে। ২০ বছর আগে তিনি রাখাল থেকে বাদাম বিক্রেতা হয়ে ওঠেন, যা তাকে আয়ের স্থিতিশীলতা এনে দেয়। ২০১০ সালে তিনি ২ হেক্টর জমি কিনে বরই চাষ শুরু করেন। বরই গাছ রোপণের সময় তিনি স্থানীয় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের পরামর্শ নিয়ে সঠিক জাত নির্বাচন করেন। গাছগুলোকে নিয়মিত জলসেচ, কীটনাশক ও সার প্রয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর রাখেন। তিনি গাছের মধ্যে ফসলের ঘনত্ব বাড়াতে নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করেন, যা ফলের গুণগত মান বাড়াতে সহায়তা করে।
মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘এই বরই গাছগুলোকে আমি সঠিক পদ্ধতিতে যত্ন নিয়েছি। ফলের গুণগত মানের কারণে বাজারে উচ্চ মূল্য পেতে পারি বলে আমি আত্মবিশ্বাসী।’ স্থানীয় কৃষকরা বলেন, ‘এটি আমাদের এলাকার অর্থনীতিতে নতুন আলো আনবে।’ বাজার বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, ‘বরই চাষে সঠিক প্রযুক্তি ও বাজার সংযোগ থাকলে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।’ গ্রামবাসীরা আশাবাদ প্রকাশ করেন যে, এই প্রকল্পটি তাদের জীবিকা উন্নত করবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
টাঙ্গাইল জেলা কৃষি বিভাগ এই প্রকল্পকে সমর্থন করছে। তারা বরই চাষে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বাজার সংযোগের ব্যবস্থা করছে। এছাড়া, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অনুদান ও ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে জেলা কৃষি বিভাগ বরই চাষে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করবে, যাতে আরও বেশি কৃষক এই সফল মডেল অনুসরণ করতে পারেন। এই উদ্যোগের ফলে সখীপুরে কৃষি অর্থনীতি উন্নত হবে এবং গ্রামবাসীর জীবিকা উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।