শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী শহরের প্রধান বাজারের কাছাকাছি এক জনবহুল রাস্তায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা মিছিল গৃহীত হয়। মিছিলটি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে এবং রাস্তায় গাড়ি চলাচল ব্যাহত করে। মিছিলের অংশগ্রহণকারীরা সাদা-লাল রঙের পতাকা, স্লোগানবাহী প্যানেল এবং শবদার সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র সঙ্গীতের আওয়াজে গর্জন করে। মিছিলের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তৎক্ষণাৎ উদ্বেগ প্রকাশ পায়। এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক করে যে, নিষিদ্ধ সংগঠনের অবৈধ কার্যক্রম জনসাধারণের শান্তি ও শৃঙ্খলা হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

ছাত্রলীগের এই অবৈধ মিছিলের পেছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংগঠনগত বিরোধের ইতিহাস রয়েছে। ২০২২ সালে সরকারী আদেশে ছাত্রলীগের কিছু শাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তবে কিছু নেতাকর্মী এখনও গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। কর্ণফুলীর পূর্ববর্তী কয়েক মাসে একই সংগঠনের কয়েকটি ছোটখাটো সমাবেশ ও প্রচারমূলক কার্যক্রমের রেকর্ড রয়েছে, যা স্থানীয় পুলিশকে সতর্ক করেছে। এছাড়া, কর্ণফুলী জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রসংঘাতের পরিমাণ সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। এই পটভূমি মিছিলকে শুধুমাত্র একক ঘটনা নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতার অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করা যায়। স্থানীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, নিষিদ্ধ সংগঠনের এই ধরনের প্রকাশ্য প্রদর্শন আইনগত শাস্তির পাশাপাশি সামাজিক শৃঙ্খলা ব্যাহত করার ঝুঁকি বহন করে। এছাড়া, পূর্বে একই রকম মিছিলের পর পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল, যা এখনো আদালতে চলমান একটি মামলার অংশ।

মিছিলের সময় উপস্থিত কিছু স্থানীয় বাসিন্দা জানান যে, তারা হঠাৎই গর্জন ও সঙ্গীতের আওয়াজে আতঙ্কিত হয়ে গিয়েছেন এবং রাস্তায় চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে কোনো শারীরিক সংঘর্ষ বা আহতের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। কর্ণফুলী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার বলেন, মিছিলটি স্বেচ্ছাসেবীভাবে শেষ করা হয়েছে এবং তারা অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছাত্রলীগের কিছু নেতার বক্তব্যে দেখা যায়, তারা মিছিলকে 'শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার জন্য' একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো মিছিলকে অবৈধ ও অশান্তিকর বলে নিন্দা করে, এবং আইন প্রয়োগে কঠোরতা দাবি করেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রয় হ্রাসের মুখোমুখি হয়েছে, কারণ গ্রাহকরা ভীড়ের কারণে শপিং এলাকা এড়িয়ে চলেছেন।

কর্ণফুলী থানার প্রধান কর্মকর্তা মিছিলের পর তৎক্ষণাৎ একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে, যা মিছিলের সংগঠক ও অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় যাচাই করবে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেবে। পুলিশ ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন সংক্রান্ত আইনের অধীনে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করেছে এবং আদালতে তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে। এছাড়া, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মিছিলের পর শহরের নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন অবৈধ সমাবেশ রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, যদি নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো আইনসঙ্গতভাবে দমন না করা হয়, তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুরূপ অশান্তিকর কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। তাই, সরকারকে প্রয়োজনীয় আইন সংস্কার ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনশান্তি নিশ্চিত করতে হবে।